📌 চাঁদপুরের ৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে চিকিৎসক থাকলেও তারা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। জনবল সংকট ও ওষুধের অভাবের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না
চাঁদপুরের ৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে কাগজে-কলমে চিকিৎসক থাকলেও তারা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে দূরত্ব অতিক্রম করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৭২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করা। কিন্তু চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও জনবল সংকটের কারণে সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁদপুরের ৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাগজে চিকিৎসক থাকলেও তারা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন
- 📌 ২০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৭২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক শূন্য
- 📌 উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৫৩টি পদে মাত্র ১৪ জন কর্মরত, শূন্য ৩৯টি পদ
- 📌 পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৫১৩টি পদে কর্মরত মাত্র ৩৩৭ জন, শূন্য ১৭৬টি পদ
- 📌 ওষুধের সংকটের কারণে রোগীরা বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য
- 📌 চাঁদপুর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেছেন, সদর হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসক নিয়োগ হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন
- 📌 সরকার ইতিমধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুরের সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের সংযুক্তিতে রাখা হয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত এমবিবিএস চিকিৎসকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। বাগাদী ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামের সুমাইয়া আক্তার বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় তিনি সদর হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাওয়া তাঁর জন্য কষ্টকর। তিনি জানান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির মতো রোগের ওষুধও প্রায়ই পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিয়ে ফিরতে হয়।
বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থাও একই। স্থানীয় শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ভুতুড়ে অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসক নেই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও নেই। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় অধিকাংশ মানুষ এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতেন। এখন মাত্র একজন স্বাস্থ্য সহকারী বসেন। বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা দাবি করেন, চিকিৎসক না থাকলে কেন্দ্র থাকা না-থাকা একই কথা। তারা দ্রুত পদ পূরণের দাবি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৫৩টি পদে মাত্র ১৪ জন কর্মরত। শূন্য রয়েছে ৩৯টি পদ। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকার ১৪২ পদের মধ্যে কর্মরত ৫৯ জন, শূন্য ৮৩টি পদ। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের ৯১ পদের বিপরীতে কর্মরত ৮২ জন, শূন্য ৯টি পদ। পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৫১৩ পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৩৭ জন; শূন্য ১৭৬টি পদ। এছাড়া ওষুধের সংকটও রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দরিদ্র মানুষের বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
"সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যথাযথসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদপুরের ৯২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র (২০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র + ৭২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমাইয়া আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, মো. মোস্তফা কামাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৫৩টি পদে ১৪ জন কর্মরত, ৩৯টি পদ শূন্য, ৫১৩টি পদে ৩৩৭ জন কর্মরত, ১৭৬টি পদ শূন্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!