📌 এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনা মিয়া আদালতের তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার শর্তে মুক্তির আদেশ পেয়েছেন। প্রকৃত আসামি রমজানকে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।
এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনা মিয়া আদালতের তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চার শর্তে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামি রমজানকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনা মিয়া আদালতের তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হন
- 📌 আদালত চার শর্তে তার মুক্তির আদেশ দেন: পরিচয়সংক্রান্ত আইডি জমা, প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা, দেশত্যাগ না করা ও প্রতি তিন মাস পর আদালতে হাজিরা
- 📌 প্রকৃত আসামি রমজানকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 আদালতের আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার পর সোনা মিয়ার জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজার জেলা কারাগারে থাকা সোনা মিয়া এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে আদালতের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চার শর্তে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বুধবার (১২ আগস্ট) এই আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সোনা মিয়াকে চারটি শর্ত পালন করতে হবে। শর্তগুলো হলো— তার পরিচয়সংক্রান্ত আইডি কার্ড আদালতে জমা দেওয়া, প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা দেওয়া, কোনোভাবেই দেশত্যাগ না করা এবং প্রতি তিন মাস পরপর আদালতে হাজির হওয়া। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার পর সোনা মিয়ার জামিননামা কারাগারে পৌঁছেছে। কাগজপত্র পাওয়ার পর আইজি প্রিজনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ২ মার্চ কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’ নামে অভিযুক্ত হন প্রকৃত আসামি রমজান। তার বাবার নাম ছিল নজির আহমদ, স্থায়ী ঠিকানা রামু উপজেলার গর্জনিয়া এবং বর্তমান ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নাম্বার ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া উল্লেখ করা হয়।
তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, কক্সবাজার সদর ও রামু থানা পুলিশ দিয়ে দ্বিতীয় আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই করা হলেও তা সঠিক পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ পরিচয় দিয়েছিলেন এবং তার কাছে পাওয়া একটি জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে ওই নামটি এজাহারে ব্যবহার করা হয়।
"২০২০ সালে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালের ২৩ জুন গ্রেফতার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। প্রকৃত আসামি রমজান সোনা মিয়ার পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।"
২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ নামে অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর গত ২৩ জুন র্যাব-১৫-এর ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সোনা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার জেলা কারাগার, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোনা মিয়া, মো. আব্দুল মান্নান, দেলোয়ার হোসেন, মানস বড়ুয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১, ২, ৪, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ২৩, ৯০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!