📌 চাঁদপুরে মাদক কেনার টাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে কলহের জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঘটনার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে
চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলায় মাদক কেনার টাকা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবাকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁদপুর সদর উপজেলায় মাদকের টাকা নিয়ে কলহের জেরে বাবা মো. মুছাব্বর গাজীকে হত্যার দায়ে ছেলে মো. হোসেন গাজীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
- 📌 আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন
- 📌 ঘটনার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে
- 📌 মাদকাসক্ত ছেলেকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকায় চিকিৎসাও করানো হয়েছিল
- 📌 ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুর জেলা আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হোসেন গাজী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, হোসেন গাজী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক কেনার টাকা নিয়ে প্রায়ই তিনি বাবার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়াতেন এবং তাঁকে মারধর করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও করানো হয়েছিল। তবে তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোসেন গাজী ঘরে শুয়ে থাকা মুছাব্বর গাজীর মাথায় ধারালো দা দিয়ে দুটি কোপ দেন। গুরুতর আহত মুছাব্বর গাজী শয্যা থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আবারও তাঁকে কোপ দেওয়া হয়। এ সময় হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তাঁর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস বাজার এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বড় ছেলে মো. আলম গাজী চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ হোসেন গাজীকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে সোপর্দ করে। মামলাটি তদন্ত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম। তদন্ত শেষে তিনি ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
"মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।"
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর কোহিনুর রশিদ জানান, আসামিপক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদপুর সদর উপজেলা, চাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হোসেন গাজী, মুছাব্বর গাজী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (মুছাব্বর গাজী), ৩৮ বছর (হোসেন গাজী), ১৫ জন সাক্ষী, ১ লাখ টাকা জরিমানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!