📌 সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার জন্য ১২টি বাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কাঁচামালের দাম বাড়লেও প্রতিমার চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু লাভ কমে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিমা সরবরাহ করা হবে
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার জন্য প্রতিমা তৈরির কাজে শিল্পপল্লীর মতো ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১২টি বাড়িতে দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। চাহিদা বাড়লেও কাঁচামাল ও পরিবহণ ব্যয়ের বৃদ্ধি কারিগরদের লাভ কমিয়ে দিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় ১২টি বাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে, যেখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৩০টি প্রতিমা তৈরি হবে।
- 📌 প্রতিটি প্রতিমার দাম ১৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত, কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে লাভ কমে যাচ্ছে।
- 📌 কারিগরদের মধ্যে পুরুষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকদের ৬০০ টাকা।
- 📌 সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিমা সরবরাহ করা হবে।
- 📌 প্রতিমা তৈরিতে পরিবারের নারী ও শিশুরাও অংশ নিচ্ছেন, কিন্তু কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে।
- 📌 ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে এবং বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় প্রতিমা তৈরির কাজে পুরো এলাকা কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। কারিগর গৌতম পালের বাড়িতে এবার প্রায় ৫০টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি প্রতিমা ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩টি প্রতিমার অর্ডার ইতিমধ্যে পেয়েছেন। গৌতম পাল বলেন, “এ বছর পালপাড়ায় প্রায় ২০০ থেকে ২৩০টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে।”
কারিগর দিলীপ পালের বাড়িতে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন। তার তৈরি প্রতিমাগুলো ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “পালপাড়ার ১২টি বাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজে শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিমা সরবরাহ করা হবে।”
প্রতিমা তৈরিতে পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের নারী ও শিশুরাও অংশ নিচ্ছেন। কেউ খড় বাঁধছেন, কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ প্রতিমার গায়ে মাটির আস্তরণ দিচ্ছেন। প্রতিমা শুকানোর পর রং ও সাজসজ্জার কাজেও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ভাবিয়ে তুলেছে কারিগরদের। গত বছরের তুলনায় বাঁশ, কাঠ, খড়, সুতা, মাটি, রং ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, “এ বছর জেলায় পাঁচ শতাধিক মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আনুমানিক ৪২টি মণ্ডপ রয়েছে।” তিনি বলেন, “শ্রীশ্রী দুর্গাদেবী যুগে যুগে অশুভ শক্তির বিনাশ ও মানুষের কল্যাণের প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন।”
"পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে কাজ করেন। পূজার মৌসুমে কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পরিবারের সবাই মিলে সহযোগিতা না করলে নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।"
হিন্দু ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। তিথি অনুযায়ী মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কারিগর গৌতম পাল, কারিগর দিলীপ পাল, সন্তোষ কুমার কানু, অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২টি বাড়ি, ৫০টি প্রতিমা, ১৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা, ২০০ থেকে ২৩০টি প্রতিমা, ১ হাজার ২০০ টাকা (পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি), ৬০০ টাকা (নারী শ্রমিকের দৈনিক মজুরি), ৪২টি মণ্ডপ (সিরাজগঞ্জ সদর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!