📌 কুষ্টিয়া দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিবন্দি ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ, ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত। ৩৫০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে নেমে আসা উজানের ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মার পানি প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। এতে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্লাবিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর পানি গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে, বর্তমানে ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে
- 📌 চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে
- 📌 ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ঝুঁকিতে পড়েছে
- 📌 ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত, পানিতে রোপা আমন ধান, কলা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 উপজেলা প্রশাসন ২৫০ থেকে ৩০০টি অসহায় পরিবারে খাদ্য ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছে
📰 বিস্তারিত
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির হার দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বর্তমানে পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজানের ঢলে পদ্মার পানি বাড়ার ফলে ইউনিয়নের সবকয়টি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি ও বন্যা দীর্ঘায়িত হলে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের সংকট আরও তীব্র হতে পারে।’
দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ জানান, ‘পানি বাড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ঝুঁকিতে পড়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষেরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’
"উজানের ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের সবকয়টি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।" — **চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান**
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ, কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার (পানিবন্দি মানুষ), ১৮টি (বিদ্যালয়), ৩৫০ হেক্টর (ক্ষতিগ্রস্ত জমি), ৮৮ সেন্টিমিটার (পানি বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!