📌 সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ওপর হামলার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি দখলের হুমকি দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রশাসন সৌদিকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে কিন্তু সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলছে
লোহিত সাগরে হুতি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুতিদের ওপর হামলার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ফোনকলের মাধ্যমে এমবিএস ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুইবার ফোন করে আহ্বান: সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ওপর হামলার আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন।
- 📌 বাব এল-মান্দেব প্রণালির হুমকি: হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত শহর মোখা দখল করে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সৌদি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- 📌 সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানো: মার্কিন প্রশাসন সৌদিকে গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সৌদি আরব সফর করে জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
- 📌 সৌদি আরবে ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য: সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন। মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলো ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার।
- 📌 হুতি-সৌদি সংঘাতের নতুন পর্যায়: জুলাই মাসে সৌদি আরব ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি না দিলে হুতি-সৌদি সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর হুতিরা সৌদি তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ওপর হামলার আহ্বান জানান। এই ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে রোধ করা। তবে ট্রাম্প এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা নেই।
হুতিরা গতকাল ইয়েমেনের কৌশলগত শহর মোখা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিলেও বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পাবে।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস বিষয়টি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
জুলাই মাসে সৌদি আরব ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন, যারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন। এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়।
"যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, ইয়েমেনের মোখা শহর, সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস), ডোনাল্ড ট্রাম্প, অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, আলি খামেনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ (মার্কিন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে), ৯ (সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!