📌 শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে হুইপের ঘোষিত পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্তে জেলাজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নতুন স্থান থেকে যাতায়াত ও সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হবে
শরীয়তপুর জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে হুইপের ঘোষিত পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় ক্যাম্পাস স্থাপনের সিদ্ধান্তে জেলাজুড়ে ক্ষোভের তরঙ্গ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, নতুন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা শহরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সদর, নড়িয়া, জাজিরা ও গোসাইরহাট উপজেলার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
- 📌 হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুর পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে জমি পরিদর্শন করে ঘোষণা দেন, সেখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- 📌 বক্তারা বলেছেন, পূর্বনির্ধারিত স্থানটি ছিল জেলা শহরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে, যেখানে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হতো।
- 📌 ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর থেকে শুরু করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন প্রণয়ন, অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পরিক্রমা সম্পন্ন হয়।
- 📌 ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।
- 📌 ১৬ অক্টোবর ২০২৬ উপাচার্য ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হুইপ পূর্ব ডামুড্যা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেন।
📰 বিস্তারিত
‘জাগো শরীয়তপুরের’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় নেতা ও সাধারণ মানুষের দাবি, পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়নকে বিবেচনা না করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, পূর্ব ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, পূর্বনির্ধারিত স্থানটি ছিল জেলা শহরের কাছাকাছি শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে, যেখানে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হতো।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য, ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য চিঠি দেয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি খসড়া আইন অনুমোদিত হয় এবং ১২ জুন মন্ত্রিসভায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরে ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির গেজেট প্রকাশ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা হয়।
"বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়নের জন্য নয়; বরং এটি পুরো জেলার উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তাই ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণে জেলার সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুর জেলা শহর, শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক, পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন, গোসাইরহাট উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুর, আমিন মোহাম্মদ জিতু, ইমরান আল নাজির, আব্দুস সামাদ ব্যাপারী, হোসেন উদ্দিন শেখর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর, ১১ টা, ১২ অক্টোবর ২০২১, ৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২ জুন ২০২৩, ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ৫ আগস্ট ২০২৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!