📌 শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর ভাঙনে নির্মাণাধীন ১ হাজার ২০২ কোটি টাকার তীর রক্ষা প্রকল্পের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শতাধিক পরিবার, বন্ধ হয়েছে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকল্পের কাজে ধীরগতি ও অনিয়ম রয়েছে
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনে নির্মাণাধীন তীর রক্ষা প্রকল্পের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত সাত দিনে প্রকল্পটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর ভাঙনে নির্মাণাধীন ১ হাজার ২০২ কোটি টাকার তীর রক্ষা প্রকল্পের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা বিলীন
- 📌 ভাঙনের মুখে পড়েছে ২৫টি পরিবার, ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি
- 📌 পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, ফরাজীকান্দি ও নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি এলাকায় সাতটি দোকান নদীতে বিলীন
- 📌 কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ
- 📌 বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি নদীতে পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
- 📌 প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের মার্চে, মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে
- 📌 প্রকল্পের প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, ফরাজীকান্দি ও নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনে নির্মাণাধীন তীর রক্ষা প্রকল্পের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত সাত দিনে প্রকল্পটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙনের মুখে পড়া ২৫টি পরিবার ইতোমধ্যে নিজেদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৩০০ পরিবারের ঘরবাড়ি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনের কারণে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার মুদি দোকানি রেজাউল করিমের দোকানসহ সাতটি দোকান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার একটি মুদি দোকান ছিল। গত রোববার রাতে মালামালসহ দোকানটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার ভাঙনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’ ভ্যানচালক ইবরাহীম ঘরামী জানান, ‘সোমবার সকালে কাজে বের হওয়ার সময় দেখি নদীর পাড়ের জিওব্যাগ তলিয়ে যাচ্ছে এবং বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। পরে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়।’
ভাঙনের কারণে কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ওই সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি তারসহ নদীতে পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চললেও নদীর ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, ‘মানুষের ভিটেমাটি রক্ষায় সরকার প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রকল্পের কাজ চলছে, জিওব্যাগ ডাম্পিং ও ক্লক স্থাপনের কাজও হচ্ছে। এর মধ্যেই আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা, পালেরচর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজাউল করিম (মুদি দোকানি), ইবরাহীম ঘরামী (ভ্যানচালক), আবুল হোসেন ফরাজি (পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ মিটার, ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা, ২৫টি পরিবার, প্রায় ৩০০ পরিবার, ৫০ মিটার, ৫৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!