📌 সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় চিংড়িঘেরের লবণাক্ত পানি বেড়িবাঁধের ক্ষতির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ধানের জমিতে প্রবেশ করায় অন্তত ১৩ বিঘা জমির ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঘেরমালিকরা অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নোনাপানি তুলছেন
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের তেলিখালী বিল এলাকায় চিংড়িঘেরের লবণাক্ত পানি পার্শ্ববর্তী ধানের জমিতে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার ধানের চারা লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। চিংড়িঘেরের পাশের প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান চাষ হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাকলা গ্রামের তেলিখালী বিল এলাকায় অন্তত ১৩ বিঘা জমির ধানের চারা লবণাক্ত পানির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে
- 📌 ঘেরমালিক আসলাম হোসেন প্রায় ৩০-৩৫ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করছেন, যার জন্য তিনি নোনাপানি তুলছেন
- 📌 স্থানীয় কৃষক নুরমান সরদারের ছয় বিঘা জমির ধানের চারা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে
- 📌 চাকলা খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকায় দেড় হাজারের বেশি বিঘা জমিতে ধান চাষ হলেও ঘেরমালিকদের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে
- 📌 ঘেরমালিকদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মামলা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিরা বেগম জানান, চিংড়িঘেরে নোনাপানি তোলার জন্য বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে পাইপ বসানো হয়েছে। এতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ কেটে নদীর পানি তোলার পাইপ আরও নিচে দেওয়া হচ্ছিল। এই নিয়েই গন্ডগোল হচ্ছিল। ঘেরের নোনাপানি চুইয়ে পাশের জমির ধানের চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে।’
চাকলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ ঢালী জানান, গত বছর এখানে ভালো ধান হয়েছিল। এবার ঘেরের নোনাপানি ঢুকে অনেক জমির ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধান না হলে সারা বছর খাবেন কী?’
ঘেরমালিক আসলাম হোসেন দাবি করেন, তিনি নতুন করে বেড়িবাঁধ বা রাস্তা কাটেননি। তাঁর মতে, গত বছরও ঘের ছিল, তখন তো পাশের ধানের ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে ঘের করছি। গত বছরও ঘের ছিল, তখন তো পাশের ধানের ক্ষতি হয়নি।’
‘ঘেরমালিকেরা নোনাপানি তুলে মাছ চাষ করবেন, আর তাঁদের জন্য ধান মরবে। এর একটা সমাধান হওয়া দরকার।’ — নুরমান সরদার, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঘেরমালিক আসলাম হোসেন, কৃষক নুরমান সরদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বিঘা (ক্ষতিগ্রস্ত জমি), ৩০-৩৫ বিঘা (ঘের), ১৫০ বিঘা (হুমকির মুখে জমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!