📌 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক আন্দোলন এড়াতে নতুন রুটে পরিবহন করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটের জন্যও অতিরিক্ত জ্বালানি পৌঁছেছে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় সফলভাবে পৌঁছেছে। এই প্রথমবারের মতো গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নতুন রুট ব্যবহার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার আওতায় তিনটি বিশেষায়িত লরি রূপপুরে পৌঁছায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিকল্প পথে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান**: রূপপুরে প্রথমবারের মতো ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে ইউরেনিয়াম পরিবহন করা হয়েছে।
- 📌 **গাজীপুরের আন্দোলন এড়াতে নতুন রুট**: রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস জানান, গাজীপুরে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এই বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **মোট পাঁচটি চালান পৌঁছেছে**: প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটি চালানসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
- 📌 **রাশিয়া থেকে আনা ২১১টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি**: দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি এবং প্রথম ইউনিটের জন্য দুটি কার্গোতে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
- 📌 **প্রথম ইউনিটের পরীক্ষা চলছে**: ভিভিইআর-১২০০ মডেলের প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে।
- 📌 **৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য**: নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এই প্রথমবারের মতো ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু দিয়ে ইউরেনিয়াম পরিবহন করা হয়েছে। এর আগে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুরে যেত।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস জানান, গাজীপুরে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই নতুন রুট ব্যবহার করে আমরা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে পারছি এবং প্রকল্পের সময়সূচীও বজায় রাখতে পারছি।”
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি আনা হবে। রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে।
প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান অনুমোদন দেন। স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর এবং পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।
"গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রূপপুর, কুষ্টিয়া; ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাকশীর লালন শাহ সেতু
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস (রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ নভেম্বর (তারিখ), ৭ টা (সকাল), ৩টি লরি, ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি, ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি, ২৯ অক্টোবর (অনুমোদন তারিখ), ৩০০ মেগাওয়াট (উৎপাদন লক্ষ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!