📌 আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি শীতকালে বাংলাদেশে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাবে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকতে পারে
চলতি শীতকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সামগ্রিকভাবে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের জন্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আগামী তিন মাসে (নভেম্বর-জানুয়ারি) বাংলাদেশে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে
- 📌 শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকবে, তবে এল নিনোর প্রভাবে গড় তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 শৈত্যপ্রবাহের সময় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে
- 📌 শীতকালে দেশব্যাপী কুয়াশা, বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 নভেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪ থেকে ৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে
📰 বিস্তারিত
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এ সময় দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। জানুয়ারিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা বেশি। এ মাসে কখনো কখনো এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
শীতকালে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এবার শীত মৌসুম তুলনামূলক উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাবে শৈত্যপ্রবাহ কতবার হবে এবং কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শীতের পূর্বাভাসের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ সময়। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
"অক্টোবর ও নভেম্বর সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ সময়। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগ), ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মমিনুল ইসলাম, ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৬টি শৈত্যপ্রবাহ, ২-৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২-৪টি লঘুচাপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!