📌 রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে এবং ডাকাতির ছাপ রাখতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। হত্যার পর অভিযুক্তরা বাসায় গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করার পাশাপাশি ডাকাতির ছাপ রাখতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হত্যার পর অভিযুক্তরা বাসার বাথরুমে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে
- 📌 ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশের দাবি
- 📌 গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে প্রার্থী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম (১২) — চারজনকে হত্যা করা হয়
- 📌 মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
- 📌 অভিযুক্তরা ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ছাপ রাখতে চেয়েছিল বলে পুলিশ জানায়
📰 বিস্তারিত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বাড়ির ভেতর থেকে লাশের গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে এই ঘটনা সামনে আসে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রবিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুইজন পাশের একটি ভবনের ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাঁদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। পরিচয় গোপন রাখতে তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের কাছে অভিযুক্তরা জানায়, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যেতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। সর্বশেষ ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে বলে জানান পুলিশ কমিশনার। এ ছাড়া আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে, সে জন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে।
"তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে। এতে পুলিশ ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে মনে করবে বলে তারা ধারণা করেছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, মুগ্ধ দাস, সিদ্ধার্থ দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন নিহত, ২ জন গ্রেপ্তার, ৬৫ বছর, ৫০ বছর, ২৫ বছর, ১২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!