📌 বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ পর্যালোচনা করবে। পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হলে যাত্রীদের সময় ও খরচে সুবিধা হবে
বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তা পরীক্ষা করে দেখবে। ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও, বন্ধ থাকা তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেনের (মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী) পুনরায় চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৮তম আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং শেষে জানানো হয়, ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ ট্রেন চালুর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
- 📌 মৈত্রী এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে চালু হলে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
- 📌 বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে এবারের বৈঠকে আলোচনা হয়নি, তবে গত বছরে আলোচিত ছিল।
- 📌 আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে ট্রেন চালু করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে যাত্রীচাহিদার তথ্য দিতে হবে, যা এখনও দেয়নি।
- 📌 পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চালানোর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করতে হবে, কারণ এখনো কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন সেতু দিয়ে চলেনি।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার রেলভবনে তিন দিনব্যাপী ৩৮তম আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক জানান, বন্ধ থাকা তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেনের (মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী) চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব ট্রেন বন্ধ করা হয়নি, বরং ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ করেছে। ফলে চালুর বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা পর্যালোচনা করা হবে।
মৈত্রী এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, ভারতীয় পক্ষ বৈঠকে আলোচনা করেছে। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। কারণ, পদ্মা সেতু দিয়ে এখনো কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি। নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হলে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে জিয়াউল হক জানান, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেনের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
দুই দেশের সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি জিজ্ঞাসুদের প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সম্পর্ক খারাপ ছিল না, এখনো ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।
"আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলানোর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রেলভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিয়াউল হক (রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ (৩৮তম আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!