📌 পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দু’পক্ষের বিরোধ দিল্লির নির্বাচন কমিশনে নিষ্পত্তির জন্য এগিয়ে গেছে। শনিবার দিল্লিতে আলাদা আলাদা বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন থেকে উদ্ভূত জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দু’পক্ষের বিরোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে এই প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ। দিল্লির নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষকে আলাদা আলাদা বৈঠকে ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শনিবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে মমতা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদের আলাদা বৈঠক হবে
- 📌 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশের দাবি: জোড়াফুল প্রতীক প্রতিষ্ঠাতা মমতারই অধিকার, তিনি প্রতীকটি নির্বাচন কমিশন থেকে অনুমোদন করেছিলেন
- 📌 ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি: দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও নেতা তাঁদের পক্ষেই রয়েছেন, তাই প্রতীকের অধিকার তাঁদের
- 📌 উপনির্বাচন ঘিরে প্রতীক নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে, আগামী ৬ অক্টোবর দুটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 প্রতিটি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন
📰 বিস্তারিত
তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের পর থেকে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল অংশ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষকে দিল্লিতে তলব করেছে। আগামী শনিবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের দপ্তরে আলাদা আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকের সময়সূচীতে প্রথমে বেলা ১১টায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এরপর দুপুর ১২টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন এবং তিনি নিজেই দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এঁকেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব নির্বাচনে এই প্রতীকেই দলটি লড়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয় ঘটে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। তৃণমূল পায় মাত্র ৮০টি আসন। এই পরাজয়ের পর মমতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দলে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন মমতার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে দল ছাড়েন।
বিদ্রোহী এই ৬৫ জন বিধায়ক একত্র হয়ে পাল্টা তৃণমূল গঠন করেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা করে। পরে বিধানসভার স্পিকার এই অংশকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং ঋতব্রত বিরোধীদলীয় নেতা হন। ফলে মমতার সঙ্গে থেকে যান মাত্র কয়েকজন বিধায়ক। উপনির্বাচন ঘিরে প্রতীক নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর।
"দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও নেতা আমাদের পক্ষেই রয়েছেন, তাই জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার আমাদের"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট), পশ্চিমবঙ্গ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১:০০ (বৈঠকের সময়), ১২:০০ (বৈঠকের সময়), ১৯৯৮ (তৃণমূল গঠনের বছর), ২৯৪ (আসন), ২০৮ (বিজেপির আসন), ৮০ (তৃণমূলের আসন), ৬৫ (বিদ্রোহী বিধায়ক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!