📌 নীলফামারীর সৈয়দপুরে রবিউল ইসলামের দুম্বা খামার থেকে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৬০টি দুম্বা, যার বেশিরভাগই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদে
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঁঠারিপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম (৫৪) কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় দুম্বা পালন খামার গড়ে তুলেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘নিয়তি দুম্বা ফার্ম’ থেকে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ৬০টি দুম্বা, যার মধ্যে বছরে গড়ে ৩০টি বিক্রি করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রবিউল ইসলামের দুম্বা খামার থেকে বছরে আয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা
- 📌 খামারে বর্তমানে রয়েছে ৬০টি দুম্বা, যার বেশিরভাগই বিক্রি হয় কোরবানির ঈদে
- 📌 ২০২৫ সালে ২৭টি ও ২০২৬ সালে ৩০টি দুম্বা বিক্রি হয়েছে
- 📌 প্রতিটি দুম্বা বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত
- 📌 দুম্বার খাবারের মধ্যে রয়েছে কচি ঘাস, খইল, ভুসি, খড় ও সাইলেজ
📰 বিস্তারিত
রবিউল ইসলামের খামারটি গড়ে উঠেছে তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে। শুরুতে তাঁর ভাই রেজাউল ইসলাম (৫৬) দুটি দুম্বা উপহার দেন। পরে আরও ছয়টি দুম্বা সংগ্রহ করে দেন। ‘টার্কি’ ও ‘আওয়াসি’ জাতের এসব দুম্বা দিয়েই শুরু হয় তাঁর স্বপ্নের খামার। রবিউল জানান, এ জাতের দুম্বার প্রজননক্ষমতা বেশি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে খামারে দুম্বার সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুই বছরের মধ্যে সংখ্যা ৬৫টিতে পৌঁছায়।
খামারের দুম্বাগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে বলে জানান রবিউল। তিনি বলেন, শুরুর দিকে দুম্বাগুলো দিনভর চিৎকার করত, তবে এক-দুই মাসের মধ্যেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। খামারের সামনের খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল ছোট-বড় ৬০টি দুম্বা। কোনোটি ঘাস খাচ্ছে, কোনোটি ছায়ায় বসে আছে।
খামারের দেখভালের জন্য রয়েছেন দুজন রাখাল। তাঁরা দিনমজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন। একজন রাখাল প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং অন্যজন ৪০০ টাকা মজুরি পান। খাবারের ক্ষেত্রে গরু-ছাগলের মতোই দুম্বার প্রধান খাবার কচি ঘাস। এর পাশাপাশি খইল, ভুসি, খড় ও চিটাগুড়ে ভেজানো সাইলেজ দেওয়া হয়।
"দুম্বা পালনে খাবার ও পরিচর্যার খরচ তুলনামূলক কম। তাই সঠিকভাবে পালন করতে পারলে এতে ভালো লাভ করা সম্ভব।"
কোরবানির ঈদে চাহিদা বেশি থাকায় সারা বছরই কমবেশি দুম্বা বিক্রি হয় রবিউলের খামার থেকে। অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ২০২৫ সালের কোরবানি ঈদে খামার থেকে ২৭টি ও ২০২৬ সালের ঈদে ৩০টি দুম্বা বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি দুম্বা ৮০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। একেকটির ওজন ৫০ থেকে ৮০ কেজি পর্যন্ত।
আশপাশের মানুষের চাহিদার কারণে দুম্বা জবাই করে মাংসও বিক্রি করেন রবিউল। তিনি জানান, প্রতি কেজি মাংস ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন। ঢাকা ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকে পাইকারেরা এসে দুম্বা কিনে নিয়ে যান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবিউল ইসলাম (৫৪)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বছরে আয় ৪০ লাখ টাকা, খামারে দুম্বা সংখ্যা ৬০টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!