📌 নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে দুই হাজারের বেশি ব্লক লুট হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতার অভাব থাকায় প্রতি রাতে লুট চলছে। বাঁধটির স্থায়ী নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে ব্যাপকভাবে ব্লক লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই লুটপাটে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ব্লক স্থানচ্যুত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে চরহাইজদা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে ব্লক লুট শুরু হয়
- 📌 এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ব্লক লুট হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের
- 📌 ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটি ঝুঁকিতে
- 📌 অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতার অভাবের
- 📌 স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ব্লক ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের সামনে অবস্থিত চরহাইজদা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে ব্যাপকভাবে ব্লক লুটের ঘটনা ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৫.৩ কিলোমিটার স্থানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে দুর্বৃত্তরা এই বাঁধ থেকে ব্লক সরিয়ে নিতে শুরু করে।
স্থানীয় কৃষক তানিম খান আদনান জানান, ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে প্রতি রাতে বাঁধ থেকে ব্লক লুট হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে থানায় অভিযোগ ও জিডি করার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। একই গ্রামের যুবক বায়েজিদ হোসেন বলেন, এভাবে ব্লক লুট হলে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং সামান্য বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাবে।
বরান্তর গ্রামের বজলু মিয়া জানান, পার্শ্ববর্তী ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের ২৭-২৮ জন লোক নৌকায় করে ব্লক লুট করছিল। তাকে গালাগালি ও ভয়ভীতি দেখানোর পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। পরদিন রাতে তার মাছের আড়তেও হামলা চালায় লুটকারীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতেও গিয়ে দেখা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দুই দিনের মধ্যে ব্লক ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যারা এসব ব্লক নিয়েছে, তাদের বাড়িতেও গিয়ে দেখে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যে বাঁধের যে জায়গা থেকে ব্লক নিয়েছিল, সেখানে পুনরায় রেখে আসার জন্য। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চরহাইজদা, ডিঙ্গাপোতা হাওর, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমেনা খাতুন (ইউএনও), তানিম খান আদনান (কৃষক), বায়েজিদ হোসেন (যুবক), বজলু মিয়া (স্থানীয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ আগস্ট, ২ হাজার ব্লক, ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ৫.৩ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!