📌 দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে ময়মনসিংহ জেলায় গত এক দশকে কমেছে বিশ হাজার ৪১৪ হেক্টর কৃষিজমি। ভালুকা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কৃষিজমি হারিয়ে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ হুমকির মুখে
ময়মনসিংহ জেলায় এক দশকে হারিয়ে গেছে বিশ হাজার ৪১৪ হেক্টর কৃষিজমি। দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের চাপে জেলার কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলার আবাদি জমির পরিমাণ ছিল তিন লাখ একত্রিশ হাজার আটশত তেইশ হেক্টর। পরবর্তী নয় অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে আবাদি জমির পরিমাণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহ জেলায় গত এক দশকে কমেছে বিশ হাজার ৪১৪ হেক্টর কৃষিজমি
- 📌 ভালুকা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে — ছয় বছরে কমেছে চার হাজার ৬০৭ হেক্টর জমি
- 📌 ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলার আবাদি জমির পরিমাণ ছিল তিন লাখ একত্রিশ হাজার আটশত তেইশ হেক্টর
- 📌 ভালুকায় ২০২০ সালে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল সাতাশ হাজার আটশত ঊনষাট হেক্টর
- 📌 স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে যেখানে ধান উৎপাদন হতো, সেখানে এখন কারখানা গড়ে উঠছে
- 📌 কৃষিজমি কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহ জেলায় দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে গত এক দশকে বিশ হাজার ৪১৪ হেক্টর কৃষিজমি কমেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কলকারখানা, বসতবাড়ি ও পাকা সড়ক নির্মাণের ফলে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলার আবাদি জমির পরিমাণ ছিল তিন লাখ একত্রিশ হাজার আটশত তেইশ হেক্টর। পরবর্তী নয় অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে আবাদি জমির পরিমাণ।
ভালুকা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ভালুকায় কমেছে চার হাজার ৬০৭ হেক্টর কৃষিজমি। ২০২০ সালে ভালুকায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল সাতাশ হাজার আটশত ঊনষাট হেক্টর। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে যেখানে ধান উৎপাদন হতো, সেখানে এখন কারখানা গড়ে উঠছে। ভালুকা শহর লাগোয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের বাঘসাতরা এলাকায় ৬৫ বিঘা জলাশয় বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে এখানে বিশাল কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় চা-দোকানি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার বেড়ে ওঠা এই এলাকাতেই। এখন যে জায়গাটি বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে, সেখানে ১০ বছর আগেও ধান হয়েছে। এরপর করা হয়েছে মাছ চাষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধানি জমি কমলেও কারখানা হওয়ায় এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, এটা মানতে হবে।’
ভরাডোবায় চলমান রয়েছে নাসির ফুটওয়্যার কোম্পানির কাজ। স্থানীয় তাজউদ্দিন বলেন, ‘২০০ একর জমির ওপর নাসির ফুটওয়্যার কোম্পানি। আমার এক একর সত্তর শতাংশ জমি কোম্পানিকে দিয়েছি স্থানীয় একজনের মাধ্যমে হয়ে। কিন্তু এখনো পুরো টাকা পাইনি। বলছে দেবে, কিন্তু কবে পাব তা বুঝতে পারছি না।’
ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিসার নুসরাত জামান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ভালুকায় কলকারখানা হচ্ছে। এতে করে কমছে কৃষিজমি। অনেক সময় চাপে পড়ে কৃষিজমি অকৃষি দেখিয়ে আমাদের প্রত্যয়ন দিতে হচ্ছে।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, জেলার কোনো জমিকেই অকৃষি জমি বলা যাবে না। এসব জমিকে কোনো না কোনো ফসল কিংবা মাছ চাষ হয়ে থাকে। জমি রক্ষায় আইনও মানা হচ্ছে না।’
‘প্রতিনিয়ত ভালুকায় কলকারখানা হচ্ছে। এতে করে কমছে কৃষিজমি। অনেক সময় চাপে পড়ে কৃষিজমি অকৃষি দেখিয়ে আমাদের প্রত্যয়ন দিতে হচ্ছে।’ — ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিসার নুসরাত জামান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ জেলা, ভালুকা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জামাল উদ্দিন, তাজউদ্দিন, নুসরাত জামান, এনামুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বিশ হাজার ৪১৪ হেক্টর, চার হাজার ৬০৭ হেক্টর, তিন লাখ একত্রিশ হাজার আটশত তেইশ হেক্টর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!