📌 ১৯৩২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জন্মগ্রহণকারী শিল্পী মুর্তজা বশীর তাঁর চিত্রকলায় স্থানীয় ইতিহাস, সাম্যবাদ ও মানবজীবনের নির্যাস তুলে ধরেছেন। তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘উৎসর্গ’ থেকে শুরু করে সাম্যবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত শিল্পকর্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তাঁর সৃজনশীল যাত্রা
১৯৩২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের রমনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা। তাঁর বর্ণনায় উঠে এসেছে অনাহারী মানুষের ভিড় আর মার্কিন সৈনিকদের উল্লাসের বিপরীতে দাঁড়ানো এক বাস্তব চিত্র। দেশভাগের পূর্ববর্তী সময়ে ঢাকা শহরের অলিগলি থেকে মাঠ-প্রান্তর পর্যন্ত বিচরণ করেছেন তিনি, যেখানে মানুষের সঙ্গে পরিবেশের একাত্মতা তাঁকে প্রভাবিত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৩২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মুর্তজা বশীরের জন্ম
- 📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে প্রত্যক্ষ করেছেন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ
- 📌 স্থানীয় আধুনিকতার ধারণা বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য
- 📌 ১৯৫৪ সালে আঁকা ‘উৎসর্গ’ চিত্রকর্মটি মানবজীবনের বাস্তবতার প্রতিফলন
- 📌 সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্পকে বিপ্লবের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ
📰 বিস্তারিত
মুর্তজা বশীরের শৈশব কেটেছে ঢাকা শহরের অলিগলিতে। ব্রিটিশ শাসনের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমা আধুনিকতার প্রভাব এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। স্থানীয় আধুনিকতার ধারণা ক্রমেই বিকশিত হতে থাকে, যা পরবর্তীতে পূর্ব বাংলার শিল্পীদের নিজস্ব ভাষায় নিজেদের কথা বলার অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর পিতা বহুভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মাতা মরগুবা খাতুনের কনিষ্ঠ সন্তান মুর্তজা বশীর সময়কে দেখেছেন নতুন কিছু সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে।
১৯৫৪ সালে ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষার্থী থাকাকালীন তিনি আঁকেন ‘উৎসর্গ’ নামক চিত্রকর্মটি। খাবারের উদ্দেশ্যে জবাই করা দুই মৃত মুরগির দৃশ্য ধারণ করা এই চিত্রকর্মটি মানবজীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানায়। তাঁর মতে, শিল্পীর কাজ হলো শোষিত জনগণের দুঃখ-দুর্দশাকে চিত্রের মাধ্যমে এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে সমাজে নতুন জীবনের সঞ্চার ঘটে।
মুর্তজা বশীরের সৃজনশীল যাত্রায় সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শ গভীর প্রভাব ফেলেছে। কমিউনিস্ট নেতা ভবানী সেন তাঁর অটোগ্রাফ খাতায় লিখেছিলেন, ‘শিল্পীর কাজ হলো শোষিত জনগণের ভাব ও দুঃখ-দুর্দশাকে চিত্রের ভেতর দিয়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা, যাতে সমাজে সে শিল্প নব জীবন সৃষ্টি করতে পারে।’ এই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন এবং শিল্পকে বিপ্লবের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৯৫৮ সালে ফ্লোরেন্সে অবস্থানকালে তিনি আঁকেন ‘একর্ডিয়ান নিয়ে মানুষ’ নামক চিত্রকর্মটি। এই চিত্রকর্মটিও সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাম্যবাদী আদর্শের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। জাপান ভ্রমণের পর তিনি পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত খুঁজে পান, যা তাঁর শিল্পকর্মে নতুন মাত্রা যোগ করে।
"শিল্পীর কাজ হলো শোষিত জনগণের ভাব ও দুঃখ-দুর্দশাকে চিত্রের ভেতর দিয়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা, যাতে সমাজে সে আর্ট নব জীবন সৃষ্টি করতে পারে।" — কমিউনিস্ট নেতা ভবানী সেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, পূর্ব বাংলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুর্তজা বশীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৩২ (জন্ম সাল), ১৯৫৪ (‘উৎসর্গ’ চিত্রকর্ম), ১৯৫৮ (‘একর্ডিয়ান নিয়ে মানুষ’ চিত্রকর্ম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!