📌 কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলে ব্রিটিশ সেনাদের দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিরুদ্ধে বিচারের লড়াই চলছে। ১৯৯৫ সালে ১৬ বছর বয়সী মন্তই লেকোলয়ি কাউন্ডা ও তার বোন নোলডোনিও পিরোকে ব্রিটিশ সেনারা নির্যাতন করে হত্যা করে, কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। এখন কেনিয়ার আদালত এই অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে
কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি গরিব গ্রামে বেড়ে ওঠা নোলডোনিও পিরো ও তার বড় বোন মন্তই লেকোলয়ি কাউন্ডা (১৬) তাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনগুলো কাটিয়েছিলেন গবাদিপশুর চারণে। তাদের পরিবারের প্রায় ২৫০টি মেষ ও ভেড়া নিয়ে তারা বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে ঘুরতেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালের একটি দুর্দান্ত দিনে তাদের জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। ব্রিটিশ সেনারা তাদের নির্যাতন করে মন্তইকে হত্যা করে, পিরোকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার ২৫ বছর পরও কোনো বিচার হয়নি। এখন কেনিয়ার আদালতে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ সেনারা কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলে দুই সিস্টারকে নির্যাতন করে মন্তইকে হত্যা ও পিরোকে ধর্ষণ করে** — কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।
- 📌 **২০০৩ সালে ২০০০ জনেরও বেশি মা-সাম্বুরু নারী ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করে** — কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সার্বভৌমত্বের দাবি করে বিচার বন্ধ রাখে।
- 📌 **কেনিয়ার হাইকোর্টে ৬৯ জন মিশ্র-রক্তের শিশু ও ১৪ দিনের অভিযোগের পর ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে** — কিন্তু ব্রিটিশ সেনারা কখনো বিচারের মুখোমুখি হয়নি।
- 📌 **ব্রিটিশ সেনারা ১৯৬৪ সাল থেকে কেনিয়ায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে — প্রতি বছর ১০,০০০ জন সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়** — কিন্তু এই প্রশিক্ষণে জড়িত নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 **কেনিয়ার আইনজীবী কেলভিন মুগাম্বি কুবাই ও বিচারপতি অ্যান্টোনিনা কোসি বোরের নেতৃত্বে এই মামলায় বিচারের লড়াই চলছে** — ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের Archer’s Post গ্রামে বেড়ে ওঠা নোলডোনিও পিরো ও তার বোন মন্তই লেকোলয়ি কাউন্ডা তাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনগুলো কাটিয়েছিলেন গবাদিপশুর চারণে। তারা দুজনই গরিব পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাদের পরিবারের প্রায় ২৫০টি মেষ ও ভেড়া নিয়ে তারা বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে ঘুরতেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালের একটি দুর্দান্ত দিনে তাদের জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। পিরো বলেন, “আমরা দুজনই একসাথে বেড়ে ওঠেছি। আমরা গান গাইতাম, কাহিনী বলতাম, একে অপরের সাথে খেলতাম। আমাদের জীবন ছিল খুবই সরল।”
তারা দুজনই ব্রিটিশ সেনাদের সম্পর্কে জানতেন না। কিন্তু একদিন তাদের জীবন পরিবর্তিত হয়ে যায়। পিরো বলেন, “আমি ভয় পেয়ে পালাতে শুরু করলাম। একজন সেনা আমার পিছনে ধাওয়া করে আমার মাথায় আঘাত করল। আমি পড়ে গেলাম। সেনাটি আমার বাহুতে দাঁড়িয়ে রেখে আমার হাড় ভাঙে দেয়া। তারপর তিনি আমাকে ধর্ষণ করলেন। যখন আমি জাগলাম, আমি রক্তে ভিজে পড়েছি। আমার বোন মন্তই মরেছে।” পিরোর বাবা কাউন্ডা লেকোলয়ি পরে বলেছিলেন, “আমি তার বোনকে খুঁজে পেলাম। তিনি রক্তে ভিজে পড়েছিলেন। আমি দেখলাম তিনি মরেছেন। দুজন সেনার চাপা পায়ের ছাপ ছিল মাটিতে।”
এই ঘটনার পর থেকে পিরো ব্রিটিশ সেনাদের ভয় পেতেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমি ব্রিটিশ সেনাদের ভয় পাই। এমনকি এখনও যখন এই ঘটনার কথা ভাবি, আমি বমি বমি ভাবি।” এই ঘটনা ছিল কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলে ব্রিটিশ সেনাদের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের একটি অংশ। ১৯৬৪ সাল থেকে ব্রিটিশ সেনারা কেনিয়ায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ জন সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কিন্তু এই প্রশিক্ষণে জড়িত নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
২০০৩ সালে ২০০০ জনেরও বেশি মা-সাম্বুরু নারী ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করে। তারা ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সার্বভৌমত্বের দাবি করে বিচার বন্ধ রাখে। কেনিয়ার আইনজীবী কেলভিন মুগাম্বি কুবাই ও বিচারপতি অ্যান্টোনিনা কোসি বোরের নেতৃত্বে এই মামলায় বিচারের লড়াই চলছে। তারা ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে।
"আমরা দুজনই একসাথে বেড়ে ওঠেছি। আমরা গান গাইতাম, কাহিনী বলতাম, একে অপরের সাথে খেলতাম। আমাদের জীবন ছিল খুবই সরল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: Archer’s Post, Samburu County, কেনিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নোলডোনিও পিরো, মন্তই লেকোলয়ি কাউন্ডা, কেলভিন মুগাম্বি কুবাই, বিচারপতি অ্যান্টোনিনা কোসি বোর, ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ ইউনিট (BATUK)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০টি গবাদিপশু, ২০০০ জন নারী অভিযোগকারী, ১০,০০০ জন প্রশিক্ষিত সেনা, ৬৯ জন মিশ্র-রক্তের শিশু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!