📌 মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরে জলাবদ্ধতা প্রকট হওয়ায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাম্পের ধীরগতির কারণে দুই মাসেও দুই ফুট পানি নামছে না, ফলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের মনু সেচ প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউসে জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিবর্তে তা যেন নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পটির আটটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প নিয়মিত চালু না থাকায় কাউয়াদীঘি হাওরের প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কাউয়াদীঘি হাওরের প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট
- 📌 মনু সেচ প্রকল্পের আটটি পাম্প নিয়মিত চালু না থাকায় দুই মাসেও দুই ফুট পানি কমছে না
- 📌 চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ অনিশ্চিত
- 📌 গত বোরো মৌসুমেও এক-তৃতীয়াংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল
- 📌 পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পাম্পের ধীরগতির কারণে ৫০ থেকে ৬০ দিন সময় লাগবে দুই ফুট পানি নামাতে
📰 বিস্তারিত
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত কাউয়াদীঘি হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯৭৬ সালে মনু সেচ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৯৮০ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হলেও বর্তমানে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। কাশিমপুরে স্থাপিত আটটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প নিয়মিত চালু না থাকায় হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে হাওরের পানি দুই থেকে আড়াই ফুট কমানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কৃষকেরা জানান, গত বোরো মৌসুমেও এক-তৃতীয়াংশ ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। এবার আউশ ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমনের চারা রোপণের সময় পার হয়ে গেলেও জমিতে পানি থাকায় চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না অনেক কৃষক। রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, ‘আমি প্রায় দুই একর জমিতে আমনের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করেছি। কিন্তু সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন চারা রোপণই করা যাচ্ছে না।’
‘পাম্প নিয়মিত চালু থাকলে এভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। দ্রুত দুই থেকে আড়াই ফুট পানি নামানো না গেলে আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’ — আলমপুর হোসেন, হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজনগর উপজেলা, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলমপুর হোসেন (হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি), সোহেল মিয়া (স্থানীয় কৃষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর, প্রায় ৩ হাজার হেক্টর, প্রায় ১০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!