📌 খুলনার তেরখাদার দুই রাজমিস্ত্রি কাজের টাকা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। আল-আমিনের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কামরুলের। পিবিআইয়ের তদন্তে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসায় রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার তেরখাদা থেকে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন কামরুল খান ও আল-আমিন
- 📌 কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল-আমিনের টাকা চাওয়ায় দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়
- 📌 ছুরিকাঘাতে কামরুলের গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়
- 📌 আল-আমিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও পিবিআইয়ের তদন্তে ধরা পড়ে যান
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর আল-আমিন নিহতের মোবাইল ফোন ও ছুরি নিয়ে পালিয়ে যান
📰 বিস্তারিত
খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার মৃত করিম খানের ছেলে মো. কামরুল খান (৪৪) রাজমিস্ত্রির কাজ করতে ঢাকায় আসেন। তাঁর সঙ্গে একই এলাকার আল-আমিনও কাজের সন্ধানে ৮ আগস্ট খুলনা থেকে আশুলিয়ায় আসেন। তাঁরা একই কক্ষে ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করেন।
পিবিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আল-আমিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় একটি তালাবদ্ধ কক্ষে দুর্গন্ধ পাওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ কক্ষটির তালা ভেঙে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির পচন ধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।
"কামরুল ও আল-আমিন ছোটবেলা থেকেই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কাজের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।" — পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীন
এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। একই দিনে খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে আসামি আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আল-আমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি বাথরুমের প্যানের ভেতর রেখে আল-আমিন খুলনায় পালিয়ে যান। তাঁর কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আশুলিয়া, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. কামরুল খান, আল-আমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ৪৪ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!