📌 সিলেটের বড়লেখা উপজেলায় সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী সুপ্রজিত কুমার দাস (ওরফে শাহরিয়ার শুভ) মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
সিলেটের বড়লেখা উপজেলায় সনাতন ধর্মের তরুণ সুপ্রজিত কুমার দাস (ওরফে শাহরিয়ার শুভ) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছেন। এই বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সনাতন ধর্মের সুপ্রজিত কুমার দাস (৪২) নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘শাহরিয়ার শুভ’ নামে পরিচিত হন।
- 📌 ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ধর্মান্তরিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি জামিয়া জান্নাত নামের তরুণীকে বিয়ে করেন এবং বিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
- 📌 বিয়ে নিবন্ধন করা হয় দক্ষিণ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কার্যালয়ে, যেখানে বর ও কনের বাড়ি বড়লেখা পৌরসভা এলাকায় হলেও।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য অনুযায়ী, ধর্মান্তরিত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন না করেই নাম পরিবর্তন করে বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
- 📌 কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দাবি করেছেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধর্মান্তর, নাম পরিবর্তন ও বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
- 📌 মৌলভীবাজার জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আইনগত সনদ ও সাক্ষী থাকলে বিবাহ নিবন্ধন বৈধ হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের বড়লেখা উপজেলায় সনাতন ধর্মের তরুণ সুপ্রজিত কুমার দাস (ওরফে শাহরিয়ার শুভ) নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নাম পরিবর্তন করে জামিয়া জান্নাত নামের মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছেন। এই বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়েছে। বর ও কনের বাড়ি বড়লেখা পৌরসভা এলাকায় হলেও তাদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে দক্ষিণ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কার্যালয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নাম-বেনামের পেজ থেকে দাবি করা হয়েছে, ধর্মান্তরিত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন না করেই নাম পরিবর্তন করে বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। এছাড়া, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরই বিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, বিয়ে নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র ও আইনি দলিল যাচাই করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বলেছেন, ধর্মান্তর, নাম পরিবর্তন ও বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের কারণে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তনের হলফনামা এবং নাম পরিবর্তনের হলফনামা উপস্থাপন করলে কাজী সাহেব মুসলিম শরিয়াহ ও আইন অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে সম্পূর্ণ বৈধ ক্ষমতা রাখেন।
মৌলভীবাজার জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বিবাহ নিবন্ধনের পূর্বে কোনো ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আইনগত সনদ অথবা নও-মুসলিম হিসেবে ধর্মান্তরিত হওয়ার অ্যাফিডেভিট বা হলফনামা দাখিল করলে এবং আইনগত ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক দুজন পুরুষ সাক্ষী থাকলে সেটি আইনগতভাবে বৈধ বিবাহ হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, কোনো কাজী যদি মুসলিম আইন লঙ্ঘন করে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাবিননামা তৈরি করেন কিংবা গোপনে বিয়ে পড়ান, তাহলে সেটি আইনগতভাবে অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
"আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধর্মান্তর, নাম পরিবর্তন ও বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের কারণে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বড়লেখা উপজেলা, সিলেট; দক্ষিণ ইউনিয়ন, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সুপ্রজিত কুমার দাস (শাহরিয়ার শুভ), জামিয়া জান্নাত, কাজী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!