📌 রাজশাহীর একটি কওমী মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আবদুর রউফের বিরুদ্ধে। ঘটনা প্রকাশ করায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে বহিষ্কার করে এবং পরিবারকে মামলা করতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ
রাজশাহীর কাটাখালীর বেলঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত তা’লীমুল কুরআন হাফেজিয়া ক্বওমী বালক-বালিকা মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আবদুর রউফের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি প্রকাশ করায় মাদ্রাসা পরিচালক আলমগীর হোসেন তাঁদের ছেলেকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করেছেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন, আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর কাটাখালী বেলঘরিয়া এলাকার তা’লীমুল কুরআন হাফেজিয়া ক্বওমী মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষক আবদুর রউফের বিরুদ্ধে
- 📌 ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনা প্রকাশ করায় মাদ্রাসা পরিচালক আলমগীর হোসেন তাঁদের ছেলেকে বহিষ্কার করেছেন
- 📌 অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুর রউফ প্রায় রাতেই মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন করতেন বলে অভিযোগ
- 📌 ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, গত মে মাসের শেষ দিকে যৌন নিপীড়নের কারণে তাঁর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে সবকিছু জানায়
- 📌 পরিবার অভিযোগ করেছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং মামলা করতে বাধা দিচ্ছে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর কাটাখালী বেলঘরিয়া এলাকার তা’লীমুল কুরআন হাফেজিয়া ক্বওমী বালক-বালিকা মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আবদুর রউফের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি প্রকাশ করায় মাদ্রাসা পরিচালক আলমগীর হোসেন তাঁদের ছেলেকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করেছেন। তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন, আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, গত মে মাসের শেষ দিকে তাঁর ছেলেকে শিক্ষক আবদুর রউফ প্রায় রাতেই মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন করেন। বাধা দিলে মারধর করা হতো এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি তাঁর ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরে সবকিছু জানতে পারেন। এরপর তিনি মাদ্রাসা পরিচালক আলমগীর হোসেনকে বিষয়টি জানান। আলমগীর হোসেন ঘটনাটি আর কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন এবং পরে শিক্ষক আবদুর রউফকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক আবদুর রউফকে বহিষ্কারের পর তাঁরা আবার ছেলেকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান। কিন্তু কয়েকদিন পর থেকেই মাদ্রাসা পরিচালক আলমগীর হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী মীম খাতুন শিশুটির সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। কয়েকদিন আগে চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁদের ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, তিনি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে চান, কিন্তু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী দলীয় লোকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হুমকিও দিয়েছেন।
পেশায় অটোরিকশাচালক ভুক্তভোগী শিশুর বাবা দাবি করেন, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা তাঁকে ভয় দেখিয়েছেন যে এ ঘটনায় কোনো মামলা করা যাবে না। মামলা করলে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হবে এবং অটোরিকশা নিয়ে বের হলে পা ভেঙে দেওয়া হবে বলেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষক আবদুর রউফের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
"এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আলমগীর হোসেন। এ জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকাও দিতে চান। তাঁর এই বক্তব্যের রেকর্ড আজকের পত্রিকার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।"
নগরের কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী জানান, ঘটনাটি তিনি প্রথম থেকেই জানেন। ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এলাকার লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হয়েছিলেন। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে যান। তবে তখন কেউ তাঁর কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, এখন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রটিকে বের করে দেওয়ার পর নতুন করে অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল, তা তদন্ত ছাড়া এখন বলা যাচ্ছে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর কাটাখালী বেলঘরিয়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলমগীর হোসেন, আবদুর রউফ, ভুক্তভোগী শিশু ও তাঁর পরিবার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর, ৫০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!