📌 মাদারীপুরের এক শিক্ষক দুই বছরের ব্যবধানে মানব পাচারের মাধ্যমে কোটিপতি হয়ে ওঠেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধশত যুবককে লিবিয়ার বন্দিশালায় বিক্রি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এক শিক্ষক দুই বছরের ব্যবধানে মানব পাচারের মাধ্যমে কোটিপতি হয়ে ওঠেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধশত যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ার বন্দিশালায় বিক্রি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিক্ষক খন্দকার হাবিবুর রহমান দুই বছরে মানব পাচারের মাধ্যমে কোটিপতি হন
- 📌 তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধশত যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ার বন্দিশালায় বিক্রি ও নির্যাতনের অভিযোগ
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে
- 📌 ভুক্তভোগীরা লিবিয়ার বন্দিশালায় ১০ মাস ধরে আটক রয়েছেন
- 📌 ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা আদায় করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের খন্দকার আলমগীর হোসেনের ছেলে খন্দকার হাবিবুর রহমান। তিনি ডাসার উপজেলার ধজি হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর ছয় মাস আগে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুর রহমান মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার যুবকদের ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতি জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হন অর্ধশত যুবক। তাঁদের ইতালি না পাঠিয়ে লিবিয়ার বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ডাসার উপজেলার বনগ্রামের হাবিবুল ঘরামি রয়েছেন। তাঁকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দিশালায় আটক রাখা হয় তাঁকে। একইভাবে ডাসার উপজেলার রামনগর গ্রামের সিফাত সরদারকেও ২২ লাখ টাকা নিয়ে লিবিয়ায় বন্দী করা হয়। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুরের সাগর হাওলাদার এবং মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পশ্চিম শিকার মঙ্গল গ্রামের ফয়সাল হোসেনও একইভাবে প্রতারণার শিকার হন। তাঁরা সবাই লিবিয়ার বন্দিশালায় ১০ মাস ধরে আটক রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা হাবিবুরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ডাসার উপজেলার বনগ্রামের ভুক্তভোগী হাবিবুল ঘরামির নানি রোকেয়া বেগম বলেন, ‘প্রায় এক বছর হলো হাবিবুল ঘরামি লিবিয়াতে বন্দী আছে। তাঁকে ইতালি নিচ্ছে না, আবার দেশেও আনছে না। লিবিয়ায় বন্দী রেখে তাঁকে অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে। অনেকবার দালাল হাবিবের বাড়িতে গিয়েছি। তাঁকে বাড়িতে পাই না।’
কালকিনি উপজেলার পশ্চিম শিকার মঙ্গল গ্রামের ভুক্তভোগী ফয়সাল হোসেনের মা পারুল বেগম বলেন, ‘চুক্তির পরও দালাল হাবিব মাস্টারকে আরও ৭ লাখ টাকা বেশি দিয়েছি। তবুও আমার ছেলে লিবিয়ায় বন্দী আছে।’
ধজি হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস আগে হাবিবুর মাদ্রাসার শিক্ষকতা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। পরে জানতে পারি, শিক্ষকতার আড়ালে মানব পাচারে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।’
কৃষি ব্যাংকের ডাসার উপজেলার গোপালপুর হাট শাখার ম্যানেজার কে এম আতাহার হোসেন বলেন, ‘হাবিবুরের অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। তাঁর একাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।’
‘আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় একটু সমস্যায় পড়ে গেছি। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। লিবিয়ায় আটকা পড়া যুবকদের শিগগির মুক্ত করে ইতালি পাঠানো হবে। আমি কারও টাকা মেরে খাব না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাদারীপুর, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার হাবিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ হাজার টাকা, ১৮-২০ লাখ টাকা, ৪টি ব্যাংক হিসাব, ১০ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!