📌 কুষ্টিয়ার পদ্মা, গড়াইসহ সাতটি প্রধান নদীতে ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। চলতি আগস্টেই চারজন নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল গঠনের
কুষ্টিয়া জেলার জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালী নদী। কিন্তু এই নদীবেষ্টিত জেলায় নিজস্ব প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল না থাকায় পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও উদ্ধার অভিযানের জন্য স্বজনদের দেড় শতাধিক কিলোমিটার দূরের খুলনা থেকে ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি আগস্ট মাসে পদ্মা ও গড়াই নদীতে চারজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে ডুবে যাওয়ার ঘটনায়
- 📌 ৫ আগস্ট পদ্মা নদীর পাড় ধসে দুই শিশু নিখোঁজ; নূরী খাতুন (৫) ও জামিলা খাতুন (৮)
- 📌 ১৪ আগস্ট শিশু আলিফ হোসেন (৮) পদ্মা ঘাটে নিখোঁজ হয়ে মৃত্যু
- 📌 ২৪ আগস্ট গড়াই নদীতে জেলে পরিমল মণ্ডল (৩৮) ডুবে মৃত্যু
- 📌 ২৮ আগস্ট পদ্মা নদীতে মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন (১২) নিখোঁজ হয়ে মৃত্যু
- 📌 কুষ্টিয়ায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 খুলনা থেকে ডুবুরি দল আসতে দেড় শতাধিক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়
📰 বিস্তারিত
কুষ্টিয়া জেলার প্রধান নদীগুলো হলো পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালী। এই নদীগুলো জেলার মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হলেও পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
৫ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড় ধসে দুই শিশু নূরী খাতুন (৫) ও জামিলা খাতুন (৮) নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা জামিলাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও নূরীর মরদেহ পরদিন মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। ১৪ আগস্ট সকালে কুমারখালীর শিলাইদহ পদ্মা ঘাটে নিখোঁজ হয় ৮ বছরের শিশু আলিফ হোসেন। পরে সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২৪ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার এম এন বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে গড়াই নদীতে ডুবে মারা যান জেলে পরিমল মণ্ডল (৩৮)। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট দুপুরে দৌলতপুরের ভাগজোত ঘাটে পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন (১২)। স্থানীয়রা এ সময় আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও মোস্তাকিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীতে কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছালেও প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় অনেক সময় তারা কার্যকরভাবে অভিযান শুরু করতে পারেন না। স্থানীয়রা নৌকা, জাল কিংবা দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জামের বিকল্প এসব উপকরণ নয়।
"আমার ছেলে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে ডুবে গেল। এখনো ছাওয়ালটার খোঁজ পেলাম না। খুলনা থেকে লোক আসবে, তারপর উদ্ধার হবে—এই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।" — শিউলি খাতুন, মোস্তাকিম হোসেনের মা
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, "যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্ত নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়ায় স্থায়ী ডুবুরি দল মোতায়েন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।"
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, "নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তাঁরা হতে পারেন না।"
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, "কুষ্টিয়া একটি নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রতিটি দুর্ঘটনায় খুলনার ডুবুরি দলের অপেক্ষা করতে গিয়ে আমরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া জেলা (পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালী নদী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তাকিম হোসেন (১২), শিউলি খাতুন (মা), সাহাব উদ্দীন মিলন (সামাজিক সংগঠক), ওয়াদুদ হোসেন (কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস সহকারী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন মৃত্যু, ৫ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট সময়কাল, দেড় শতাধিক কিলোমিটার দূরত্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!