📌 বরগুনার বলেশ্বর নদীর মোহনায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে গুমের নির্মম চক্র। স্থানীয়রা জানান, সাদাপোশাকের লোকেরা রাতের অন্ধকারে মানুষ ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে দিত। গুম হওয়া মানুষদের নাম ছিল ‘প্যাকেট’, যার কোনো পরিচয়ই থাকত না।
বরগুনার পাথরঘাটা থানার প্রত্যন্ত চরদুয়ানী এলাকায় অবস্থিত একটি খাল সরাসরি মিলিত হয়েছে বলেশ্বর নদে। এই নদীর মোহনার কাছাকাছি একটি জনমানবহীন চর রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘গুমচর’ নামে পরিচিত। প্রায় এক দশক ধরে এই চরের গভীর স্রোতে হারিয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের লাশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে, রাতের অন্ধকারে সাদাপোশাকের লোকেরা চরদুয়ানী বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে আলো নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিত। তারপর শুরু হতো অপারেশন। বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে খাবার, দড়ি, লাশ বাঁধার চাটাইসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হতো। অন্ধকার নিশ্চিত হলে গাড়ি এসে থামত ঘাটে, আর ট্রলারে তুলে দেওয়া হতো চোখ-হাত বাঁধা ‘প্যাকেট’গুলোকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বলেশ্বর নদীর মোহনার ‘গুমচরে’ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে গুম ও হত্যার নির্মম চক্র
- 📌 স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাত ৯টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ ও আলো নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিত সাদাপোশাকের দল
- 📌 গুম হওয়া মানুষদের নাম ছিল ‘প্যাকেট’, যার কোনো পরিচয়ই থাকত না
- 📌 গুমের পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল ভিন্ন ভিন্ন দল, যারা একে অপরের কাজ সম্পর্কে জানত না
- 📌 গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নির্মম পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ
📰 বিস্তারিত
বরগুনার পাথরঘাটা থানার চরদুয়ানী এলাকায় অবস্থিত খালটি সরাসরি মিলিত হয়েছে বলেশ্বর নদে। এই নদীর মোহনার কাছাকাছি একটি জনমানবহীন চর রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘গুমচর’ নামে পরিচিত। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই চরের গভীর স্রোতে হারিয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের লাশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এই ঘটনার বিবরণ। তারা জানান, রাতের অন্ধকারে সাদাপোশাকের লোকেরা চরদুয়ানী বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে আলো নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিত। তারপর শুরু হতো অপারেশন। বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে খাবার, দড়ি, লাশ বাঁধার চাটাইসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হতো। অন্ধকার নিশ্চিত হলে গাড়ি এসে থামত ঘাটে, আর ট্রলারে তুলে দেওয়া হতো চোখ-হাত বাঁধা ‘প্যাকেট’গুলোকে।
গুম হওয়া মানুষদের নাম ছিল ‘প্যাকেট’, যার কোনো পরিচয়ই থাকত না। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গুমের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সুচতুরভাবে পরিকল্পিত। অপহরণ, নির্যাতন, বন্দিত্ব এবং হত্যা—এই চারটি ধাপ ভিন্ন ভিন্ন দলের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে একটি দল অন্য দলের কাজ সম্পর্কে জানত না। এই কাঠামোগত ফাঁকগুলোই গুম ভিকটিমদের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপারেশনের সময় আশপাশের মানুষেরা উঁকিও দিত না। কারণ দু-একজন মুখ খুলতে গিয়ে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন। গুমের এই নির্মম পদ্ধতি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অন্তত তিনটি দেশেও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে জানিয়েছেন।
"গুমের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সুচতুরভাবে পরিকল্পিত। অপহরণ, নির্যাতন, বন্দিত্ব এবং হত্যা—এই চারটি ধাপ ভিন্ন ভিন্ন দলের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে একটি দল অন্য দলের কাজ সম্পর্কে জানত না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরগুনার পাথরঘাটা থানার চরদুয়ানী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল: প্রায় এক দশক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!