📌 রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতির পোশাক নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো। কঙ্গনা রনৌত ও রাহুল গান্ধীর পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়
রাখিবন্ধনের একটি বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতির পোশাক নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপন প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো। বিজ্ঞাপনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গয়না বিপণন প্রতিষ্ঠানটি সব মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে কৃতির পরিহিত ব্রালেট ধাঁচের টপ ও স্কার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়
- 📌 বিজ্ঞাপনে পরিবারের সদস্য ও পোষ্য কুকুরকে রাখি পরাতে দেখা গেলে আরও বিরোধিতা বাড়ে
- 📌 কঙ্গনা রনৌত কৃতির পোশাককে বিকিনি হিসেবে তুলনা করে প্রশ্ন তোলেন এবং বিজ্ঞাপনটিকে ‘অদ্ভুত’ বলে কটাক্ষ করেন
- 📌 কৃতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, একজন নারীর পোশাক নিয়ে সমাজের নির্দেশ দেওয়া উচিত নয়
- 📌 রাহুল গান্ধী কৃতির পক্ষে দাঁড়িয়ে নারীর স্বাধীনতার পক্ষে মত প্রকাশ করেন
- 📌 বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না
📰 বিস্তারিত
রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতির পরিহিত ব্রালেট ধাঁচের টপ ও স্কার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিজ্ঞাপনটিতে পরিবারের সদস্য ও পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাতে দেখা গেলে বিরোধিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একাংশের অভিযোগ ছিল, ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের পোশাক মানানসই নয়।
বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেন অভিনেত্রী ও বিজেপির সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। তিনি কৃতির পোশাককে বিকিনি হিসেবে তুলনা করে প্রশ্ন তোলেন, ভাইকে রাখি পরানোর সময় কেন বিকিনি পরতে হবে। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, ‘এত বিকল্প থাকার পরও ভাইকে রাখি পরানোর সময় বিকিনি পরতে হবে কেন?’ বিজ্ঞাপনটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘অদ্ভুত’ করে তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি কটাক্ষ করেন।
কৃতিও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘একজন নারী কী পরবেন, তা নিয়ে সমাজ আর কত দিন নির্দেশ দিয়ে যাবে?’ তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তাঁর হৃদয়ে থাকে, পোশাকের গলার কাটে নয়। রাখিবন্ধনের তাৎপর্য সম্পর্কে তিনি জানান, উৎসবের সৌন্দর্য পোশাকে নয়, বরং ঐতিহ্য ও সম্পর্কের প্রতি আবেগের মধ্যে।
বিতর্কে রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি কৃতির পক্ষে দাঁড়িয়ে নারীর স্বাধীনতার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। রাহুল লেখেন, ‘একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন—তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর পাল্টা কটাক্ষ করেন কঙ্গনা।
‘ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের আনন্দের মুহূর্ত পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ায়।’
এই বিতর্কের মধ্যেই বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া নয়। সম্মানের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’ ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে বিষয়টি শুধু একটি বিজ্ঞাপন বা পোশাকের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; নারীর পোশাকের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা, এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও এতে যুক্ত হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃতি শ্যানন, কঙ্গনা রনৌত, রাহুল গান্ধী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!