📌 যশোর কারাগারে সাজা শেষ হলেও ৪৩ ভারতীয় নাগরিকের দেশে ফেরার অপেক্ষা চলছে। দু’জন ভারতীয়ের মৃত্যুর পর মর্গে মরদেহ পড়ে আছে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন অনেক বন্দী
যশোর কারাগারে সাজা শেষ হলেও ৪৩ ভারতীয় নাগরিকের দেশে ফেরার অপেক্ষা চলছে। দু’জন ভারতীয়ের মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন অনেক বন্দী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোর কারাগারে ৫২ ভারতীয় বন্দী, এর মধ্যে ৪৩ জনের সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরার অপেক্ষা চলছে
- 📌 ৮ থেকে ১৫ বছর কারাগারে থাকতে হচ্ছে সাজা শেষ হওয়া ৪৩ ভারতীয়ের, কারও সাজা ছিল মাত্র ১৫ দিন
- 📌 দু’জন ভারতীয়ের মৃত্যুর পর মর্গে মরদেহ পড়ে আছে — বাছুল মাঝি (৯ অক্টোবর) ও গাজী মণ্ডল (১৯ অক্টোবর)
- 📌 ৭ জন নারী ও ২৪ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি — দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন
- 📌 ভারতের উত্তর প্রদেশের বাছুল মাঝি ২০১৩ সালে অবৈধ প্রবেশের দায়ে আটক হন, সাজা শেষ হলেও ২০১৮ সাল থেকে কারাগারে
- 📌 যশোর জেলা প্রশাসক বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেলে বন্দীদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
যশোর কারাগারে বন্দী থাকা ৫২ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ৪৩ জনের সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরার অপেক্ষা চলছে। কারাগারে মোট ৫২ ভারতীয় বন্দী থাকলেও তাদের মধ্যে ৪৩ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের জটিলতায় তাদেরকে ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হচ্ছে। কারও সাজা ছিল মাত্র ১৫ দিন, কারও ২ বছর।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় অনেক বন্দী শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বন্দীদের মধ্যে ৭ জন নারী এবং ২৪ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। ভারতের উত্তর প্রদেশের চিতামারী জেলার কাঁকড়ারা গ্রামের বাসিন্দা বাছুল মাঝি ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে আটক হন। পরদিন আদালত তাঁকে ছয় মাসের বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় সিজোফ্রেনিয়া সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন তিনি। ৯ অক্টোবর বুকে ব্যথা শুরু হলে তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে আরেক ভারতীয় গাজী মণ্ডলের মরদেহ। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা গাজী অস্ত্র আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯ অক্টোবর তিনি মারা যান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখার চারটি চেম্বার রয়েছে। এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। দুটিতে ভারতীয় বন্দীদের মরদেহ। ফলে অন্য মরদেহ রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।’
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় চারল দেবী (৪৮) ও গোবিন্দ বিহারী (৪৭) দিনের বেশির ভাগ সময় কান্নাকাটি করেন। চারল দেবী ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি শরীয়তপুরে আটক হন। আদালত তাঁকে ৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর সাজা শেষ হলেও মুক্তি মেলেনি তাঁর। গোবিন্দ বিহারী ২০১১ সালে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড পান। সাজা শেষ হওয়ার পরও প্রায় ১৪ বছর দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
"সাজা শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের কারাগারে থাকা দুঃখজনক। এদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।"
— আমিনুর রহমান হিরু, যশোরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর কারাগার, যশোর জেনারেল হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাছুল মাঝি, গাজী মণ্ডল, চারল দেবী, গোবিন্দ বিহারী, আমিনুর রহমান হিরু, হুসাইন শাফায়াত, মোহাম্মদ আশেক হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩ (সাজা শেষ ভারতীয়), ৫২ (মোট ভারতীয় বন্দী), ৮-১৫ (বছর কারাগারে থাকতে হচ্ছে), ৭ (নারী বন্দী), ২৪ (৫০ বছরের বেশি বয়সী বন্দী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!