📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম শেষে সাত নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২। প্রসিকিউটর তামিম যুক্তি তুলে ধরেন যে, ইট-লাঠির বিপরীতে মারণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই আত্মরক্ষা হতে পারে না
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইট-লাঠির বিপরীতে মারণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই আত্মরক্ষা হতে পারে না বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটর তামিম।
- 📌 ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।
- 📌 কার্যক্রম শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতাকে।
- 📌 প্রসিকিউটর তামিম উল্লেখ করেন যে, হত্যা, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার মতো অপরাধের শাস্তি সমান।
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, "ইট-লাঠির জবাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের মগজ উড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই আত্মরক্ষা হতে পারে না।"
তিনি আরও বলেন, স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হয়েছে এবং তারা আনুপাতিক বলপ্রয়োগ করেছেন। তবে প্রসিকিউটর তামিম যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ইট-লাঠি। এর বিপরীতে লেথাল ওয়েপন বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়ে মগজ উড়িয়ে দেওয়া কখনোই প্রোপোর্শনেট হতে পারে না। এটা কোনোভাবেই নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে করেননি তারা।"
প্রসিকিউটর তামিম উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩-এর ২ ধারায় অপরাধের বিষয়ে বেশ কয়েকটি উপধারা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, প্ররোচনা, চেষ্টা, সহায়তা ও অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, "হত্যা যেমন একটি অপরাধ, তেমনি হত্যায় সহায়তা করা, নির্দেশ দেওয়া বা উসকানি দেওয়াও পৃথক অপরাধ। আর এসব অপরাধের শাস্তিও সমান।"
তিনি আরও বলেন, "মাঠপর্যায়ে যারা হত্যা করেছে, তারা হত্যার জন্য দায়ী। আর যিনি ঊর্ধ্বতন হিসেবে মারার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি উসকানি বা নির্দেশ দেওয়ার অপরাধে দায়ী।" জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ নিয়ে ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনটি জিনিস থাকা লাগে: একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা, অভিন্ন উদ্দেশ্য এবং মাঠপর্যায়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়া। তিনি বলেন, "সবাই অপরাধী হবেন, কারণ উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, মাঠপর্যায়ে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।"
"ইট-লাঠির জবাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে মগজ উড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই আত্মরক্ষা হতে পারে না। এটা কোনোভাবেই নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে করেননি তারা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ নেতা, ধারা ৩-এর ২
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!