📌 গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাধারণত গর্ভকালীন ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে না আসলে ইনসুলিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভকালীন সাধারণত ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তান প্রসবের পরপরই এই সমস্যা কমে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়
- 📌 গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
- 📌 গর্ভাবস্থার তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ইনসুলিন কার্যকারিতা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হ্রাস পায়
- 📌 গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ব্যায়ামের পরও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে না আসলে ইনসুলিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয়
- 📌 ইনসুলিন গর্ভস্থ শিশুর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
📰 বিস্তারিত
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শরীরের ওজনাধিক্য, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রমহীন জীবনযাপন এবং পারিবারিক ইতিহাসকে। এছাড়া বেশি বয়সে গর্ভধারণ, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিএমওএস) এবং অন্যান্য হরমোনজনিত জটিলতাও এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে প্লাসেন্টা থেকে উৎপন্ন বেশ কয়েকটি হরমোন ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
গর্ভাবস্থার তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে অর্থাৎ ২৪ সপ্তাহ পর থেকে মায়ের ইনসুলিন কার্যকারিতা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যায়। তখন মায়ের অগ্ন্যাশয় অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদন করে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে তা সত্ত্বেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে না। একেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়।
এই অবস্থায় চিকিৎসা না করালে মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। মায়ের প্রি-একলাম্পশিয়া, একলাম্পশিয়া, গর্ভের পানির পরিমাণ অস্বাভাবিক হওয়া এবং ডায়াবেটিসজনিত অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে শিশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, জন্মের পরপরই হাইপোগ্লাইসেমিয়া এবং সময়ের আগেই প্রসবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
"গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা, নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটির মাধ্যমে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যায়। তবে জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরও যদি এক সপ্তাহের মধ্যে গ্লুকোজ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসে, তাহলে ইনসুলিন শুরু করতে হবে। ইনসুলিন প্লাসেন্টা অতিক্রম করে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে না বলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।"
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ওজনের একজন মায়ের প্রথম ট্রাইমেস্টারে প্রতি কেজি ওজনের জন্য দৈনিক ৩০ কিলোক্যালরি এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ৩৫ কিলোক্যালরি গ্রহণ করা উচিত। খাদ্যতালিকায় জটিল ও লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত শর্করা থেকে ক্যালরির ৩৩ থেকে ৪০ শতাংশ, প্রোটিন থেকে ২০ শতাংশ এবং ফ্যাট থেকে ৪০ শতাংশের কম ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া দৈনিক ২৫ থেকে ৫০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহ, ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ, ৩০ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!