📌 ঘোস্টিংয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইন উপস্থিতি ('অরবিটিং') মানুষকে বিভ্রান্ত করে তোলে। গবেষণা বলছে, স্টোরি ভিউ বা লাইক শুধু আগ্রহের ইঙ্গিত নয় — বাস্তব আচরণ দেখতে হবে
ডেটিং অ্যাপে শুরু হওয়া সম্পর্কের শেষে যখন হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ‘ঘোস্টিং’ শিকারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি আবার আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখতে শুরু করলে কি সে ফিরে আসতে চায়? যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী গবেষকদের নতুন গবেষণা জানায়, এমন অনলাইন আচরণকে ‘অরবিটিং’ বলা হয় — যা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘অরবিটিং’: ঘোস্টিংয়ের পর সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রেখেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার পোস্ট দেখা বা স্টোরি ভিউ করা
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা: ঘোস্টিং হচ্ছে ‘পছন্দের নয় এমন সম্পর্ক ভাঙার কৌশল’ — যা শিকারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও কষ্ট তৈরি করে
- 📌 ইতালির গবেষণা: স্টোরি ভিউ বা লাইক শুধু আগ্রহের ইঙ্গিত নয় — বাস্তব আচরণ দেখতে হবে
- 📌 কানাডার গবেষণা: সাবেক সঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে মানসিক কষ্ট বাড়ায় — ৭৬২ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে প্রমাণিত
- 📌 পরামর্শ: আনফলো, মিউট বা ব্লক করা উচিত যদি অনলাইন উপস্থিতি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে
📰 বিস্তারিত
ডেটিং অ্যাপে পরিচয়, কয়েকটি ভালো ডেট এবং নিয়মিত কথাবার্তা — সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফোনে কল নেই, মেসেজ নেই, কোনো উত্তরও নেই। এভাবেই শুরু হয় ‘ঘোস্টিং’ — যা আধুনিক ডেটিং অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আরও সাধারণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী গিলি ফ্রিডম্যান ও ডারসি পাওয়েলের ২০২৪ সালের গবেষণা-পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ঘোস্টিং হচ্ছে ‘পছন্দের নয় এমন সম্পর্ক ভাঙার কৌশল’। ঘোস্টিংয়ের শিকার ব্যক্তির মধ্যে বিভ্রান্তি ও কষ্ট তৈরি হয়, যখন ঘোস্টিংকারী ব্যক্তি সহজে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান এড়াতে চায়।
কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায়, সেই ব্যক্তি আবার আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখতে শুরু করে, স্টোরি ভিউ করে বা লাইক দেয়। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব মিলানো-বিকোক্কার গবেষকদের মতে, এমন আচরণকে ‘অরবিটিং’ বলা হয় — সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রেখেও অনলাইনে আপনার জীবনের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো। এই আচরণের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো বিভ্রান্তি। একটি স্টোরি ভিউ দেখেই মনে হতে পারে ‘সে কি আমাকে আবার মিস করছে?’ বা ‘ফিরে আসতে চাইছে?’ কিন্তু গবেষণা বলছে, শুধু একটি ডিজিটাল ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে এসবের মধ্যে কোনটি সত্যি, তা বলা সম্ভব নয়।
কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট তারা সি. মার্শালের গবেষণায় ৭৬২ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে দেখা গেছে, সাবেক সঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দেখতে মানসিক কষ্ট বাড়ায়। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে, সাবেক সঙ্গীকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো বিচ্ছেদজনিত কষ্টগুলো আবার ফিরে আসে। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ঘোস্টিংয়ের পর যদি কেউ আবার আপনার জীবনে ফিরতে চায়, তাহলে শুধু ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বরং দেখতে হবে, তিনি বাস্তবে কী করছেন — হঠাৎ একটি ‘হাই’ মেসেজ পাঠিয়ে আবার কয়েক দিন পর অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছেন কিনা, বা স্পষ্টভাবে কথা বলছেন কিনা।
"একটি স্টোরি ভিউ দিয়ে কারও উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা যায় না। কেউ কৌতূহল থেকে স্টোরি দেখতে পারেন, আবার কারও মনে আপনার প্রতি আগ্রহ থাকতেও পারে। কিন্তু শুধু একটি ডিজিটাল ইঙ্গিতের ওপর ভিত্তি করে এসবের মধ্যে কোনটি সত্যি, তা বলা সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গিলি ফ্রিডম্যান, ডারসি পাওয়েল, তারা সি. মার্শাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৬২ জন অংশগ্রহণকারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!