📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বারবার পরিদর্শন ও আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যায়নি। বিদ্যালয়ের আসবাব ও সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বারবার পরিদর্শন করলেও বিদ্যালয়টি রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যালয়টির আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের কারণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
- 📌 বিদ্যালয়টি চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
- 📌 পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
- 📌 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গতকালও বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়েছে। ভাঙন শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের সহায়তায় আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
- 📌 জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, স্কুল এলাকায় এর আগে কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের কারণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিদ্যালয়টির আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৮ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এতে বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আশা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সেই আশাও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও স্কুলে ক্লাস হয়েছে। ভোরে শুনলাম এই অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে এটিও স্যারকে জানাই। তিনি এসেছেন। পরামর্শ করে ১৪ জন শ্রমিক লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে চলে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও স্যার সবাই এসেছিলেন। শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। স্কুল এলাকায় একটি জিও ব্যাগও ফেলানো হয়নি।’
‘টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নতুন করে যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তাঁরা। বিশেষ করে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।’ তবে স্কুল এলাকায় এর আগে কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গত বছর ওই স্কুলের আপ ও ডাউনে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তবে এবার ওই স্কুল রক্ষায় কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়নি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ হোসেন আজাদ (প্রতিমন্ত্রী), মো. সাইফুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক), মো. জামাল উদ্দিন (ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ আগস্ট, ১৪ জন শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!