📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির এআই কমিটির সদস্য ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম। তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণা, শিক্ষাজীবন ও গবেষণায় অবদানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি অব সায়েন্সেসের এআই কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রথম বাংলাদেশি গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন রিসার্চ। বিজ্ঞানচিন্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেন তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণা ও সাফল্যের পেছনের গল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির এআই কমিটির সদস্য নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি গবেষক সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম
- 📌 ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন রিসার্চ পুরস্কার লাভ করেন ২০২৫ সালে
- 📌 কমিটির কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআই ও ফাউন্ডেশন মডেল ব্যবহারের সুপারিশ প্রদান
- 📌 ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপকদের গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে
- 📌 শৈশবে বাসচালক হওয়ার স্বপ্ন ছিল, পরবর্তীতে বিজ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করেন
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিন বিভাগের এআই কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন রিসার্চ। এই দুই স্বীকৃতিই তাঁর জন্য সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, "এসব স্বীকৃতি আমি আগে থেকে আশা করিনি। জাতীয় একাডেমির কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ গবেষকদের নাম বিবেচনায় ছিল। যখন নির্বাচনের খবর জানানো হলো, তখন অবাক হয়েছিলাম। এটি শুধু সম্মান নয়, শেখারও বড় সুযোগ।" ডিনস অ্যাওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও তাঁর নিজের আবেদন করার অভিজ্ঞতা ছিল না। বিভাগের সিনিয়র সহকর্মীরা তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
গবেষণায় তাঁর সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী ও গবেষণা অংশীদারদের অবদান। তিনি বলেন, "এসব কাজ কখনো একা করা সম্ভব নয়। আমার সঙ্গে যাঁরা গবেষণা করেছেন, তাঁদের অবদানও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।"
"দুটি স্বীকৃতির ধরন আসলে ভিন্ন। জাতীয় একাডেমির কমিটির কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফাউন্ডেশন মডেল কীভাবে কার্যকর এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণা ও সুপারিশ করা। অন্যদিকে ডিনস অ্যাওয়ার্ডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার স্বীকৃতি। কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপকদের গবেষণার ভিত্তিতে এটি দেওয়া হয়।"
সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত তিনি কালুরঘাটে পড়াশোনা করেন। পরে নাসিরাবাদ সরকারি স্কুল ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে তাঁর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়। ২০১১ সালে তিনি বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি অর্জন করেন।
তিনি জানান, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যাওয়া তাঁর কাছে খুব বেশি কঠিন মনে হয়নি। দুই ক্ষেত্রেই গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের ব্যবহার অনেক। তিনি বলেন, "ছোটবেলায় আমার স্বপ্ন ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাসচালক হওয়া। তখন সোহাগ পরিবহনের বিজ্ঞাপন দেখতাম। একবার ঢাকা থেকে কয়েকজন আত্মীয় এসেছিলেন। তাঁদের কাছে ঢাকা নিয়ে অনেক গল্প শুনেছিলাম। সেখান থেকেই হয়তো মাথায় ঢুকে গিয়েছিল, বাস চালালে নিয়মিত ঢাকা যাওয়া যাবে।"
তাঁর স্বপ্ন পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্লাস থ্রি-ফোরের দিকে সম্ভবত ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল। তবে খেলাধুলায় তিনি ভালো ছিলেন না। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন, কিন্তু শারীরিক সক্ষমতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে তিনি প্রকৌশলের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পরও তাঁর গবেষক হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি ইচ্ছা করেছিলেন কোনো টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করার। তৃতীয় বর্ষে তিনি দেখেন, অনেকেই গবেষণা করছে ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন তাঁর মনে হয়, তিনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
"ছোটবেলায় কুদরাত-এ-খুদা এবং জগদীশচন্দ্র বসুর কথা পড়েছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মতিন স্যার। তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে আড্ডা হতো। তিনিই আমাকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে যেতে উৎসাহ দেন। মতিন স্যার অনেকটা বাবার মতো আমাকে আগলে রেখেছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য নির্বাচিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!