📌 অভাবের সংসারে একই স্কুল ইউনিফর্ম পরে পুরো শিক্ষাজীবন পার করেছেন অনিক ইসলাম। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার শিক্ষার্থী হিসেবে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি আলোচিত। তার মতো আরও পাঁচজন মেধাবী শিক্ষার্থীর গল্প তুলে ধরছে প্রথম আলো।
অভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার অনিক ইসলাম। তার অসাধারণ কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে এক কঠিন জীবনযুদ্ধ। অনিকের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে, তাকে একই স্কুল ইউনিফর্ম পরে পুরো স্কুলজীবন পার করতে হয়েছে। তার বাবা নজরুল ইসলাম দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। মা শেফালি বেগম গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে সংসারের আয় বৃদ্ধি করেন। তাদের সংসারে প্রতিদিনের খরচ চালাতেই কষ্ট হতো। ফলে অনিকের শিক্ষাজীবনের জন্য আলাদা কোনো ব্যয় করার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 একই স্কুল ইউনিফর্ম পরে পুরো স্কুলজীবন পার করেছেন অনিক ইসলাম
- 📌 নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অনিক
- 📌 এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন অনিক ইসলাম
- 📌 পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে একই পোশাকে স্কুলে যেতে হয়েছে তাকে
- 📌 অনিকের মা গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে সংসারের আয় বৃদ্ধি করেন
📰 বিস্তারিত
অনিক ইসলামের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামে। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন দিনমজুর। মা শেফালি বেগম গবাদিপশু পালন করে সংসারের আয় বৃদ্ধি করেন। তাদের সংসারে প্রতিদিনের খরচ চালাতেই কষ্ট হতো। ফলে অনিকের শিক্ষাজীবনের জন্য আলাদা কোনো ব্যয় করার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের।
অনিক যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন, তখন তার স্কুলের পোশাক বানিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় তার প্যান্টের নিচের দিকে অতিরিক্ত কাপড় রাখা হয়েছিল। ধীরে ধীরে অনিক বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই অতিরিক্ত কাপড় খুলে দেওয়া হয়। শার্টের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে একই পোশাক পরে তিনি পুরো স্কুলজীবন পার করতে সক্ষম হন।
অনিক ইসলামের শিক্ষক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, 'অনিক অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র শিক্ষার্থী। তাকে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।'
‘অনিক যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়, তখন তার স্কুলের পোশাক বানিয়ে দিই। সে সময় প্যান্টের নিচের দিকে কাপড় বেশি রাখি। যখন সে বড় হয়, তখন একটু একটু করে খুলে দিই। শার্টে সাদা কাপড় জোড়া দিয়ে বড় করি। এভাবে এক পোশাকে তার স্কুল শেষ করেছে।’ — শেফালি বেগম, অনিকের মা
অনিকের এই অসাধারণ কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের অবদান। তার মা শেফালি বেগম বলেন, 'আমাদের সংসারে প্রতিদিনের খরচ চালাতেই কষ্ট হতো। ফলে অনিকের শিক্ষাজীবনের জন্য আলাদা কোনো ব্যয় করার সামর্থ্য ছিল না।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনিক ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!