📌 পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের ১৫ মাসের ছেলেকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজের ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে মারুফ মুন্সিকে (২২) আটক করে পুলিশ
- 📌 গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনা থানা-পুলিশ
- 📌 অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
- 📌 শিশুটিকে তার দাদা মো. মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। শিশুটির দাদা মো. মফিজ মুন্সি ও দাদি মাহফুজা বেগম তাকে গ্রহণ করেন।
এর আগে রোববার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনা থানা-পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের এ নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, মারুফ নামের এক তরুণ আইফোনের জন্য নিজের ছেলেসন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ও শিশুটির ভবিষ্যত বিবেচনা করে অভিযুক্ত মারুফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে শিশুটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের পারিবারিক কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তারা আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে শিশুটিকে তার দাদি মাহফুজা বেগম দেখাশোনা করছিলেন।
মাহফুজা বেগম জানান, শনিবার সকালে শিশুটিকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান মারুফ। সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, ঢাকায় মারুফের সহকর্মী ইমরান হোসেনের শ্বশুর মহিবুল টাকার বিনিময়ে তার নাতিকে নিয়েছেন। মহিবুলের কোনো ছেলেসন্তান নেই বলে জানা যায়।
পরিবারের দাবি, শিশুটির দাম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, ওই টাকা ও নিজের পুরোনো আইফোনের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে মারুফ নতুন আইফোন কিনেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।
তবে ছেলেকে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন মারুফ। তিনি জানান, তিনি এলাকায় কিছু ধারদেনা করেছেন। এ কারণে ইমরান ও তার শ্বশুরের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় তারা তাকে ৫২ হাজার টাকা দেন। তার কোনো ফোন না থাকায় একটি আইফোন সংগ্রহ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মারুফকে ঢাকা থেকে এলাকায় নিয়ে আসে বলে জানান দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম।
"উদ্ধার করা শিশুটিকে সোমবার উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারুফ মুন্সি (২২), শিশুটির দাদা মো. মফিজ মুন্সি, দাদি মাহফুজা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ মাস (শিশুর বয়স), ৫২ হাজার টাকা (অগ্রিম অর্থ), ১ লাখ টাকা (মোট অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!