📌 গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অন্যদের সঙ্গে এক টেবিলে খাবার ভাগ করে খেলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে, সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। অক্সফোর্ড ও জাপানের গবেষকদের মতে, একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
গবেষকদের মতে, নিয়মিত অন্যদের সঙ্গে এক টেবিলে খাবার ভাগ করে খেলে বিষণ্নতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের সুস্থতায়ও ভূমিকা রাখে এই অভ্যাস। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘কমেনসালিটি’, যার অর্থ একসঙ্গে খাবার খাওয়া ও ভাগ করে নেওয়া।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিয়মিত অন্যদের সঙ্গে এক টেবিলে খাবার খেলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে
- 📌 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জান-এমানুয়েল দে নেভের মতে, একসঙ্গে খাওয়া মানুষের মধ্যে বন্ধন ও বিশ্বাস তৈরির প্রাচীন উপায়
- 📌 চীনের এক গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৯ হাজার নারীর মধ্যে দেখা যায়, টেবিলে একসঙ্গে খাওয়ার সংখ্যা মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত
- 📌 জাপানের আরেক গবেষণায় দেখা যায়, পরিবারের সঙ্গে থাকলেও একা খাওয়া ব্যক্তিদের বিষণ্নতার উপসর্গ বেশি দেখা দেয়
- 📌 একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের আয়তন বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়
📰 বিস্তারিত
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জান-এমানুয়েল দে নেভে বলেন, এক টেবিলে বসে খাবার ভাগ করে নেওয়া মানুষের মধ্যে বন্ধন, বিশ্বাস ও সংযোগ তৈরির একটি প্রাচীন উপায়। তিনি উল্লেখ করেন, একসঙ্গে খাওয়ার সময় মানুষ শুধু খাবারই ভাগ করে না, বরং গল্প, অনুভূতি, হাসি এবং সময়ও ভাগ করে নেয়। তবে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় এই অভ্যাস অনেকটাই কমে এসেছে। অনেকেই একই বাড়িতে থেকেও আলাদা সময়ে খাচ্ছেন অথবা ফোন হাতে একা ডিনার করছেন।
চীনের ঝেজিয়াং প্রভিন্সিয়াল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের একটি গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৯ হাজারেরও বেশি নারীকে নিয়ে দেখা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, টেবিলে একসঙ্গে খাওয়ার মানুষের সংখ্যা মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, জাপানের একটি গবেষণায় ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এমন মানুষদের দেখা হয়, যারা পরিবারের সঙ্গে থাকেন কিন্তু প্রায়ই একা খাবার খান। দেখা যায়, নিয়মিত অন্যদের সঙ্গে খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় একা খাওয়া ব্যক্তিদের বিষণ্নতার উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
গবেষকদের মতে, একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের সুস্থতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। ২০২৫ সালের একটি জাপানি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত একা খাবার খান, তাদের মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে তুলনামূলক কম আয়তন দেখা গেছে। এর মধ্যে ছিল কগনিটিভ বা চিন্তাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অঞ্চল এবং হিপোক্যাম্পাস, যা স্মৃতি ও শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা অবশ্য সরাসরি বলেননি যে একা খাওয়াই মস্তিষ্কের আকার কমিয়ে দেয়। তবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বেশি স্ট্রেস এবং কম মানসিক উদ্দীপনা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
"খাবারের টেবিলে গল্প করা, অন্যের কথা শোনা, হাসাহাসি কিংবা দিনের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা, এসবই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার এক ধরনের সামাজিক অনুশীলন হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন ও জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জান-এমানুয়েল দে নেভে (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর, ৯ হাজার, ৬৫ বছর, ৭৪ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!