📌 সরকার সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার ও ফি নির্ধারণ করে নতুন বিধিমালা জারি করেছে। স্কুল, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় গতিসীমা কমিয়ে ১৫ কিলোমিটার রাখা হয়েছে। নিবন্ধন ফি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা মানদণ্ড পর্যন্ত বিস্তারিত নিয়মাবলী প্রকাশিত হয়েছে
সরকার সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার গতি, ফি, নিরাপত্তা ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। দেশের সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সর্বোচ্চ গতি**: সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় **২৫ কিলোমিটার** নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতি সীমিত **১৫ কিলোমিটার** রাখা হয়েছে।
- 📌 **নিবন্ধন বাধ্যতামূলক**: ই-রিকশার নিবন্ধন পাঁচ বছরের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুয়েটের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ না করলে সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ।
- 📌 **ফি নির্ধারণ**: দুজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি **৮ হাজার টাকা** এবং বার্ষিক নবায়ন ফি **৪ হাজার টাকা**। চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতার জন্য এককালীন ফি **১০ হাজার টাকা** এবং বার্ষিক ফি **৫ হাজার টাকা**।
- 📌 **নিরাপত্তা নিয়ম**: ই-রিকশায় **৪০ ডেসিবেলের বেশি হর্ন** ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রতিটি যানবাহনে **স্পিডোমিটার** স্থাপন করতে হবে। ব্যাটারি চার্জ করতে হবে **সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্টে**।
- 📌 **অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল**: নিবন্ধনের তারিখ থেকে **১২ বছর** পর ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশা সড়কের **বাম লেনে** চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলতে পারবে না। ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ **দুই বা চারজন** যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ।
নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স **১৮ বছর** বা তার বেশি। আবেদন ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ফি ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাইয়ের পর **৩০ কার্যদিবসের মধ্যে** নিবন্ধন দেয়া হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য **কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর ও প্লেট** প্রদান করা হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে **এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি** ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে কোনো একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। বর্তমান সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোও বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নকশা পরিবর্তন করে নিবন্ধন পেতে হবে।
"ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্টে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিটি করপোরেশন এলাকা (সারাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় সরকার বিভাগ, চালক, যাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি/ঘণ্টা, স্কুল এলাকায় ১৫ কিমি/ঘণ্টা, নিবন্ধন ফি ৮-১০ হাজার টাকা, নিবন্ধন মেয়াদ ৫ বছর, অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!