📌 ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম মূল সড়কে হকারদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করে ফুটপাতের স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। নির্ধারিত ফি ও স্থানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজছে ডিএসসিসি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবনে আয়োজিত হকার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় ঘোষণা করেন, মূল সড়কে কোনো অবস্থাতেই হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র প্রশস্ত ফুটপাত সংরক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মূল সড়কে হকারদের অবাধ বিচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম
- 📌 নির্ধারিত ফুটপাত ব্যতীত অন্যান্য স্থানে হকারদের ব্যবসা করার অনুমতি থাকবে না
- 📌 হলিডে মার্কেট চালু হবে শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত
- 📌 নৈশকালীন মার্কেট পরিচালিত হবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাণিজ্যিক এলাকায়
- 📌 হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬ অনুসারে এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 মাসিক স্থান ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা ফি হিসেবে প্রতি হকারকে ৩ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে
- 📌 নিবন্ধিত হকারদের জন্য বারকোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, ঢাকা শহরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতে হকার ব্যবস্থাপনার সুশৃঙ্খলীকরণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, "আমরা হকারদের জীবিকা নির্বাহের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই, তবে তা হতে হবে নিয়মের মধ্যে থেকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে ঢাকায় পুনর্বাসনের মাধ্যমে হকার সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।" তাঁর মতে, সরকার কর্তৃক প্রণীত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬ কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমেই এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।
এই নীতিমালার আওতায় হকারদের জন্য নির্ধারিত ফি ও স্থান ব্যবহারের নিয়মাবলি তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন নিবন্ধন ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং মাসিক স্থান ব্যবহার ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধিত হকারদের পরিচয়পত্র হিসেবে বারকোডযুক্ত ডিজিটাল লাইসেন্স প্রদান করা হবে, যেখানে তাঁদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ থাকবে।
হলিডে মার্কেট পরিচালনার ক্ষেত্রে শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে এই মার্কেট বসবে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালিত হবে। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাঠ বা কবরস্থানের সামনে কোনো মার্কেট স্থাপন করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ জায়গা নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।
এছাড়া, ফুটপাতে পথচারীদের জন্য ন্যূনতম দেড় মিটার (প্রায় ৫ ফুট) জায়গা অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। হকারদের নিজ দায়িত্বে স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নির্ধারিত বিনে আবর্জনা ফেলতে হবে। লাইসেন্স ব্যতীত ব্যবসা করলে বা নির্দেশিত সীমানা লঙ্ঘন করলে উচ্ছেদসহ নিবন্ধন বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে।
"আমরা সকলেই হকার সমস্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে হকারদের নিবন্ধন, নিয়মিত নবায়ন এবং নির্ধারিত সড়ক ও সময়ে ব্যবসা করার শৃঙ্খলা মেনে চললেই এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবদুস সালাম (ডিএসসিসি প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা, মাসিক স্থান ফি ৩ হাজার টাকা
- 🔢 নীতিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত স্থান: নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!