📌 কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় চার দশকেও নির্মিত হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবির পরও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি
কুষ্টিয়া জেলার বৃহত্তম উপজেলা দৌলতপুর। আয়তন ৪৬১ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। এখানে রয়েছে প্রায় ২৮টি হাটবাজার ও পাঁচটির বেশি শিল্পকারখানা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি দিয়াশলাই কারখানা ও বিড়ির কারখানা। রয়েছে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ছয়টি বেসরকারি ক্লিনিক। কিন্তু উপজেলা প্রতিষ্ঠার চার দশক পরও এখানে নির্মিত হয়নি কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উপজেলা প্রতিষ্ঠার চার দশকেও দৌলতপুরে নির্মিত হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন
- 📌 অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ২০ কিলোমিটার দূরের ভেড়ামারা উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আসতে হয়
- 📌 ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজন ১০০ শতক জমি, এর মধ্যে ৮২ শতক জমি বরাদ্দ হলেও প্রকল্পটি স্থবির
- 📌 ২০২৩ সালে ৬০টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা
- 📌 ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে, কিন্তু পরে তা স্থগিত হয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু চার দশকেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। উপজেলার কোথাও অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভেড়ামারা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন থেকে কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে থাকে।
দৌলতপুর ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজন ১০০ শতক জমি। এর মধ্যে ১১ আগস্ট জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তি থেকে ৮২ শতক জমির পাশে আরও ১৮ শতক জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে গাড়ি বরাদ্দ না হওয়ায় প্রকল্পটির কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে নিয়োগ পাওয়া ১৬ জন কর্মী জেলার বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনে সংযুক্ত রয়েছেন।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত গত সাত মাসে দৌলতপুরে ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে ৪৫টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে ক্ষতি হয়েছিল ৪০ লাখ টাকা। আর ২০২৩ সালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
"ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্ধারিত জমিতে থাকা পুকুর মাটি-বালু দিয়ে ভরাট করতে হবে। ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রকল্প পরিচালকও আছেন। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।" — মো. ওয়াদুদ হোসেন, সহকারী পরিচালক, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স
দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়ায় ফায়ার স্টেশনের জন্য জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও প্রকল্পটি স্থবির রয়ে গেছে। এখানে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হলেও গাড়ি না থাকায় কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় যতজন জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তাঁরা সবাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শরিফুল ইসলাম, মো. ওয়াদুদ হোসেন, রেজা আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬১ (বর্গকিলোমিটার), ৫ (লাখ), ২৮ (টি), ১০০ (শতক), ২০ (কিলোমিটার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!