📌 ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম-ঠিকানা ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রকৃত আসামি উধাও হয়ে যাওয়ায় আদালতের রায় কার্যকর হলেও নির্দোষ ব্যক্তি কারাগারে রয়েছেন
কক্সবাজারের একটি ইয়াবা মামলায় প্রকৃত আসামি উধাও হয়ে যাওয়ায় নির্দোষ ব্যক্তি কারাগারে রয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১ মার্চ। ওই সময় কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন ৫ জন। মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম ছিল সোনা মিয়া। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে পাওয়া একটি জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে নামটি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২০ সালের মার্চ মাসে কক্সবাজারে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন ৫ জন
- 📌 মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম ছিল সোনা মিয়া
- 📌 অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই করা যায়নি
- 📌 ২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়া জামিন পান এবং পরবর্তীকালে আত্মগোপনে চলে যান
- 📌 ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন
- 📌 ২৩ জুন র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হন সোনা মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি
- 📌 কারাগারে যাওয়ার পর তিনি দাবি করেন তিনি এই মামলার আসামি নন
- 📌 তদন্তে জানা যায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান
📰 বিস্তারিত
২০২০ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন ৫ জন। মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম ছিল সোনা মিয়া। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে পাওয়া একটি জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে নামটি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান চালানো হলেও তা সঠিক পাওয়া যায়নি। ফলে তাকে জেলহাজতে রেখে পরবর্তী বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়া কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত মামলায় সংশ্লিষ্ট ৫ আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারের ওয়ারেন্টমূলে গ্রেফতার হন সোনা মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠে। কারাগারে যাওয়ার ২/৩ দিন পর তিনি জেল সুপারের কাছে আবেদন করেন যে তিনি এই মামলার আসামি নন। জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। গত ২ জুলাই থানার পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উঠে আসে যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান। তিনি নিজেকে সোনা মিয়া বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় যাচাইয়ে জানা যায়, তিনি রমজান নামে পরিচিত। ঘটনার সময় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে ২ নম্বর আসামির প্রকৃত নাম ছিল রমজান। তিনি নিজেকে সোনা মিয়া বলে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন এবং একটি জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখান। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন। পরে তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় একই ঘরে অবস্থান করেন।
"মামলাটি দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলসহ পুরো বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার চরম গাফেলতি রয়েছে। কোন এক ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নিয়ে অন্য কেউ ওই নামে পরিচয় দিলে তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তার। এই মামলার ক্ষেত্রে সোনা মিয়ার প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা যায়নি বলে অভিযোগপত্র দাখিল করে দায়হীনতা দেখিয়েছে। এমন কি ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম যে রমজান তাও বের করা হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোনা মিয়া, রমজান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৯০ হাজার, ৫ জন, ২ নম্বর, ১৩ জুন, ৫ জন, ২৩ জুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!