📌 মৎস্য সুরক্ষা আইন থাকলেও দেশজুড়ে অবাধে চলছে চায়না দুয়ারি জাল ও বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকার। স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় বন্ধ হচ্ছে না এই ধ্বংসাত্মক প্রথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের প্রয়োগ না থাকায় নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাছের প্রজাতি
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার প্রবীণ মৎস্যশিকারি আবদুল করিম চাচা প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেন। তাঁর ভাষ্যমতে, একসময় তিস্তা, সানিয়াজান, বুড়িতিস্তা ও ধরলা নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র পাল্টেছে। তিনি জানান, চায়না দুয়ারি জাল ও বৈদ্যুতিক শকে মাছ নিধনের কারণে গভীর পানির মাছ বিলুপ্তির পথে, আর অগভীর পানির মাছ শেষ হয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক ফাঁদে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৎস্য সুরক্ষা আইনে চায়না দুয়ারি জাল ও বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও দেশজুড়ে চলছে অবাধে এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার।
- 📌 চায়না দুয়ারি জালে লোহার রিং ও ছোট ফাঁসওয়ালা নেট ব্যবহৃত হয়, যার ফলে মাছ ঢুকতে পারে কিন্তু বের হতে পারে না।
- 📌 বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধরার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়, বিশেষ করে মা মাছ ও পোনা ধ্বংস হয়ে যায়।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ধরনের প্লাস্টিক ফাঁদের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে, যা আইনত নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
- 📌 স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বারবার জাল পুড়িয়ে ফেললেও আবার নতুন করে জাল সংগ্রহ করে মাছ শিকার অব্যাহত রাখছেন জেলেরা।
📰 বিস্তারিত
তিস্তা, সানিয়াজান, বুড়িতিস্তা ও ধরলা নদীতে একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত বলে জানান আবদুল করিম চাচা। তিনি বলেন, ‘গভীর পানির মাছগুলো চায়না দুয়ারি জালে ধরা পড়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর অগভীর পানির মাছগুলো বৈদ্যুতিক শকে মারা যাচ্ছে।’ চায়না দুয়ারি জাল তৈরিতে লোহার গোল বা চারকোনা রিং ও ছোট ফাঁসওয়ালা নেট ব্যবহৃত হয়। এই জালে মাছ ঢুকতে পারে অনেকগুলো পথ দিয়ে, কিন্তু বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। অনেকে একে রিং জালও বলে থাকেন।
বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধরার পদ্ধতিতে কয়েক মিটার অংশজুড়ে পানিকে বিদ্যুতায়িত করা হয়। ফলে সেই অংশের সব মাছ ও জলজ প্রাণী তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায়। বিশেষ করে মা মাছ ও পোনা ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যুতিক শকে ধরা মাছ খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। নীলফামারী জেলার তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় এমন বৈদ্যুতিক শকে ধরা মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়। একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘বড় বৈরালি মাছগুলো বৈদ্যুতিক শকে মারা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের মাছ খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ধরনের প্লাস্টিক ফাঁদের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। এই ফাঁদগুলো পানির নিচে ফেলে রাখা হয়। চায়না দুয়ারি জালের মতোই এতে মাছ ঢুকতে পারে অনেকগুলো পথ দিয়ে, কিন্তু বের হওয়ার পথ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাঁদও মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত, কারণ এতে ছোট পোনা ও বিভিন্ন পোকামাকড় মারা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ফেললেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জেলেরা আবার নতুন করে জাল সংগ্রহ করে মাছ শিকার চালিয়ে যান। কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। একজন মাঝি জানান, ‘আমাদের নৌকা তাদের উদ্দেশে চালাতে থাকলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
"চায়না দুয়ারি জাল ও বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধরা বন্ধ করতে হলে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। শুধু জাল পুড়িয়ে ফেললে চলবে না, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল করিম চাচা, স্থানীয় প্রশাসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!