📌 চট্টগ্রামের সরফভাটা ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত স্থানীয়রা। চাঁদাবাজি, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার অন্তত ২২টি পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। পুলিশের দাবি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন ভিন্ন চিত্র
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রকাশ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের শিকার অন্তত ২২টি পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে অনিচ্ছুক তাঁরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরফভাটা ইউনিয়নে প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হন ৭০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তালুকদার
- 📌 হত্যার আগে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা; পরিবার মামলা করেনি ভয়ের কারণে
- 📌 সরফভাটায় খুন, জখম ও চাঁদাবাজির শিকার অন্তত ২২টি পরিবার
- 📌 স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন বহু মানুষ
- 📌 পুলিশের দাবি সরফভাটার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন ভিন্ন তথ্য
📰 বিস্তারিত
গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল বাজারের সড়কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ৭০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তালুকদারকে। প্রায় আধা ঘণ্টা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ তাঁর কাছে যাননি। পরদিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার জানিয়েছে, তাঁর কাছে কয়েক দফায় চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। হত্যার কয়েক দিন আগেও দুই লাখ টাকা চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা।
নুরুল ইসলামের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘আম্মা আগেই মারা গেছেন। বাবাকেও হত্যা করা হলো। মাঝেমধ্যে বাড়িতে গিয়ে আব্বা–আম্মার কবর জিয়ারত করি। মামলা করলে কবর জিয়ারতের জন্য বাড়িতে যাওয়াটাও বন্ধ হয়ে যাবে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আত্মীয়স্বজনদের পরামর্শে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুলিশও আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরফভাটায় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খুন বা নিখোঁজ হওয়া আরও চার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও মামলা করেননি। তাঁরা গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে ভয় পান।
সরফভাটার পরিস্থিতি জানতে তিন দিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলোর দুই প্রতিবেদক। খুন, জখম ও চাঁদাবাজির শিকার অন্তত ২২টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়। ছয়টি পরিবারের সদস্য সরফভাটার বাইরে এসে কথা বলেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভাষ্য, সরফভাটায় বসে সন্ত্রাসীদের বিষয়ে কথা বলাও নিরাপদ নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, ‘এখন সন্ত্রাসীদের শাসন চলে।’ সরফভাটার পশ্চিমাংশ, মীরেরখীল ও পাহাড়ঘেঁষা বিভিন্ন গ্রামের বহু মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন। পাহাড়ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় যাঁরা এখনো বসবাস করছেন, তাঁদের অনেককেই টাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা শহর বা অন্যত্র চলে গেছেন। আর যাঁদের যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাঁরা কষ্ট করে চাঁদা বা মাসোহারা দিয়ে সেখানে থাকছেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার বলেন, ‘বিয়ে, ব্যবসা, প্রবাস থেকে দেশে ফেরা—এমন বিভিন্ন উপলক্ষেও টাকা দাবি করা হয়। বাজারে লেবু বিক্রি করেন—এমন লোকের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সরফভাটা ইউনিয়ন, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুল ইসলাম তালুকদার, মো. জামাল উদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ বছর, ২২টি পরিবার, ২ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!