📌 সরকার গঠনের ছয় মাস পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ সরকারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে ব্যস্ত। দলীয় রাজনীতি পিছিয়ে থাকলেও এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে। দলীয় নেতারা স্বীকার করছেন, সরকার গঠনের পর দল পুনর্গঠনে সময় লেগেছে
সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ সরকারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দলীয় রাজনীতি ও সংগঠন পুনর্গঠনের পরিবর্তে এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তাঁরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকার গঠনের পর এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে দলীয় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন
- 📌 স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাওয়া নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন
- 📌 বিএনপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভের চেষ্টা করছেন
- 📌 দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করলেও সরকারে মিশে যায়নি
- 📌 বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ সরকারে দল মিশে যাওয়ার ঝুঁকি স্বীকার করেন
📰 বিস্তারিত
সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে দুটি প্রধান দায়িত্ব ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা। তবে ছয় মাস পূর্তির সময় দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততায় দলীয় রাজনীতি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। দলের নেতারা স্বীকার করছেন, এ সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল সীমিত। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির বাইরে মাঠে দলটির তৎপরতা খুব একটা দেখা যায়নি।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকার গঠনের পর এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম জানান, নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে স্থানীয় এমপির সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করতে হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য (নোয়াখালী-৩) মো. বরকতউল্লা বুলুর সমর্থন লাগবে। সে জন্য তিনি এলাকায় এলে দেখা করি, আমি ঢাকায় গেলে তাঁর বাসায় যাই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয় যে দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ঢেলে সাজাতে পারিনি, এটা সত্য। এখন আমরা অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনসহ দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।’
বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ সরকারে দল মিশে যাওয়ার ঝুঁকি অস্বীকার করেন না। তিনি বলেন, যাঁরা নেতা, তাঁরাই তো এমপি-মন্ত্রী। আবার অনেকে স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। সে কারণে সরকারের কর্মকাণ্ডগুলো বুঝে নিতে একটু সময় লেগেছে। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব সতর্ক।’
‘দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয় যে দল সরকারে ঢুকে গেছে।’ — বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বেগমগঞ্জ উপজেলা, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. বাহরুল আলম, সালাহউদ্দিন আহমদ, এমরান সালেহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ মাস (সরকার গঠনের পর), স্থানীয় সরকার নির্বাচন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!