📌 'ব্ল্যাক সুগারকেইন' নামের ফিলিপাইনসের কালো আখের চাষ গাজীপুরে অর্থনৈতিক বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও নতুন রোপণ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকরা দ্বিগুণ ফলন পাচ্ছেন এবং দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা খুলেছে
গাজীপুরে নতুন কৃষি বিপ্লব শুরু হয়েছে। 'ব্ল্যাক সুগারকেইন' বা ফিলিপাইনসের কালো আখের চাষ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। বর্তমানে এই আখের চাষে গাজীপুরে ব্যাপক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১,৬০৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে কালিয়াকৈর উপজেলার সাকাশ্বর এলাকায় বসুন্ধরা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (বেসিল) গবেষণামূলকভাবে এই আখ চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরে 'ব্ল্যাক সুগারকেইন' আখের চাষে দ্বিগুণ ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা — প্রতি বিঘায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ চারা রোপণ সম্ভব
- 📌 বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) আনুষ্ঠানিকভাবে 'বিএসআরআই আখ ৪৯' হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে ফিলিপাইনসের এই আখ
- 📌 গাঢ় বেগুনি-কালচে রঙের এই আখের চিবিয়ে খাওয়ার সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্য এবং রোগবালাইমুক্ত বৈশিষ্ট্য কৃষক ও ভোক্তাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে
- 📌 বেসিলের গবেষণায় দেখা গেছে, এই আখের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে শাকসবজি চাষ করা যায় এবং কীটনাশকের ব্যবহার একেবারেই কম লাগে
- 📌 গাজীপুরে মোট ১,৬০৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলায় সর্বাধিক ১,২২০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে 'ব্ল্যাক সুগারকেইন' বা ফিলিপাইনসের কালো আখ। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাকাশ্বর এলাকায় বসুন্ধরা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (বেসিল) গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ এই আখ চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে এই আখের চাষে গাজীপুরে ব্যাপক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১,৬০৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলায় সর্বাধিক ১,২২০ হেক্টর জমিতে, শ্রীপুরে ১৮৯ হেক্টর, গাজীপুর সদরে ১০০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৬০ হেক্টর এবং কালিয়াকৈরে ৩৪ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হচ্ছে।
বেসিলের গবেষণামূলক প্রকল্পে দেখা গেছে, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে, কম খরচে এই আখের দ্বিগুণ ফলন লাভ করা সম্ভব। ফয়সাল আহমেদ, বেসিলের গবেষণা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, প্রচলিত চাষ পদ্ধতিতে দুই থেকে তিন ফুট দূরে চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে চারা থেকে চারার দূরত্ব কমিয়ে ১ থেকে ১.৫ ফুট ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩ ফুট রাখা হয়। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ কাটিং বা চারা রোপণ সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তিনি আরও বলেন, চারার ঘনত্ব বাড়লেও গাছের উচ্চতা বা ব্যাসে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং প্রতি বিঘায় দ্বিগুণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
ব্ল্যাক সুগারকেইন আখের বৈশিষ্ট্য ও বৈজ্ঞানিক পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) গাজীপুর আঞ্চলিক অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইনচার্জ ড. নিলুফার ইসলাম বলেন, এই আখের গাঢ় বেগুনি-কালচে রঙ এবং অতি রসালো কাণ্ডের কারণে এটি কৃষকদের পাশাপাশি ভোক্তাদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও, এই আখের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করা যায় এবং কীটনাশকের ব্যবহার একেবারেই কম লাগে।
"ব্ল্যাক সুগারকেইন চাষে নতুন রোপণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক সফলতা মিলেছে। প্রচলিত চাষ পদ্ধতির তুলনায় এই আখের চাষে খরচ কমে গেছে এবং ফলন দ্বিগুণ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর, কালিয়াকৈর উপজেলা, সাকাশ্বর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফয়সাল আহমেদ (বেসিল গবেষণা কর্মকর্তা), ড. নিলুফার ইসলাম (বিএসআরআই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১,৬০৩ হেক্টর (মোট আখ চাষের জমি), ১,২২০ হেক্টর (কাপাসিয়া উপজেলায়), ৩,৫০০-৪,০০০ (বিঘা প্রতি চারা সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!