📌 খেলাপি ঋণের চাপে বাংলাদেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। মার্চ শেষে মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যাংক খাতের দুর্বল অবস্থার কারণে।
খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের মূলধন ঘাটতি মার্চ শেষে আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে ২১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা, যা গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। কিছু ব্যাংকের মূলধন উদ্বৃত্ত থাকায় মোট ঘাটতির একটি অংশ সমন্বয় হয়েছে। তবে দেশের ৬১টি ব্যাংকের সার্বিক নিট মূলধন ঘাটতি মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরে ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে নিট মূলধন ঘাটতি প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্চ শেষে ২১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি
- 📌 ৬১টি ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা (ডিসেম্বরে ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা)
- 📌 খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপে ব্যাংক মুনাফা কমে যাচ্ছে
- 📌 মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ শতাংশ
- 📌 ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সর্বাধিক মূলধন ঘাটতিতে (৬৬ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা)
📰 বিস্তারিত
ব্যাংক খাতের দুর্বল অবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের বিপরীতে উচ্চহারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হলে ব্যাংকের মুনাফা কমে যায় এবং মূলধন ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, “খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূলধন ঘাটতিও বাড়ে। কারণ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে উচ্চহারে প্রভিশন রাখতে হয়। এতে মুনাফা কমে যায় এবং লোকসান হলে মূলধন ঘাটতি আরও বেড়ে যায়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে এ ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। জুন শেষে তা আরও বেড়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগ্রাসী ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতের মূলধন পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, “মূলধন ঘাটতির কারণে আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাংকের প্রতি অনাস্থা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে একটি ব্যাংকের দুর্বলতার প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০ থেকে ২১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি থাকা ব্যাংক খাতের দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।”
"খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূলধন ঘাটতিও বাড়ে। কারণ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে উচ্চহারে প্রভিশন রাখতে হয়। এতে মুনাফা কমে যায় এবং লোকসান হলে মূলধন ঘাটতি আরও বেড়ে যায়।"
"মূলধন ঘাটতির কারণে আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাংকের প্রতি অনাস্থা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে একটি ব্যাংকের দুর্বলতার প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা (মূলধন ঘাটতি), ২২ হাজার কোটি টাকা (বৃদ্ধি), ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!