📌 নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের নেতৃত্বে ১৪০টি অনুচ্ছেদের ঐতিহাসিক ঘোষণা অনুমোদিত হয়। বিশ্বের ৪০% জিডিপি ও ৫০% জনসংখ্যার এই জোট পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিরুদ্ধে একমত হয়। জম্মু-কাশ্মীরের সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাও নিন্দিত হয়
বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে দিল্লি। ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় ১৪০টি অনুচ্ছেদের ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’, যা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে পুনর্নির্মাণের দাবি তুলে ধরেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মাঝে এই সম্মেলন ভারতের কূটনীতির বিজয়কে প্রমাণ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪০টি অনুচ্ছেদের ঐতিহাসিক ঘোষণা অনুমোদিত হয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে, যা বিশ্বরাজনীতিতে ভারতের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 ১১ সদস্যের জোট (বিশ্বের ৫০% জনসংখ্যা, ৪০% জিডিপি, ২৬% বাণিজ্য) একমত হয় পশ্চিমা একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও কার্বন ট্যাক্সের বিরুদ্ধে
- 📌 জম্মু-কাশ্মীরের সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু নিন্দিত হয় ব্রিকস ঘোষণায়, যা ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে
- 📌 জাতিসংঘ সংস্কারের দাবি পুনরুজ্জীবিত হয়, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে ভারত ও ব্রাজিলের স্থায়ী সদস্যপদ চাওয়া
- 📌 গাজা সংকটে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ বন্ধ ও পূর্ব জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী করার দাবি পুনরুচ্চারিত
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ব্রিকস জোটের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বব্যবস্থার বৈষম্য ও পুরাতন কাঠামোর অকার্যকরতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো আর যথেষ্ট নয়। এই সুরে জোটটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কারের দাবি তোলে, বিশেষ করে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সংস্কারের দাবি পুনরুজ্জীবিত হয়।
বিশ্বের ১১ সদস্যের এই জোটের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রও একই টেবিলে বসেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দুই মেরুতে অবস্থানকারী ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একই ঘোষণায় রাজি করানো ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ভারতীয় কূটনীতির দক্ষতার মাধ্যমে এই মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়। সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
অর্থনৈতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্রিকস জোটের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ-সংক্রান্ত কার্বন বর্ডার ট্যাক্সের বিরোধিতা করে বলেন, এসব বাধানিষেধ মূলত দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের মানুষের অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য কমাতে সদস্য দেশগুলো নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া, অকার্যকর হয়ে পড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ও আপিল বিভাগ দ্রুত সচল করার দাবি জানানো হয়।
আঞ্চলিক সংঘাতের প্রশ্নেও ব্রিকস নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা তুলে ধরেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ এবং পূর্ব জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী করার দাবি পুনরুচ্চারিত হয়। সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের নাম উল্লেখ না করে, যে কোনো সংঘাতের সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং সুদান ও সিরিয়া সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের ডাকও আসে এই মঞ্চ থেকে।
"দ্রুত পরিবর্তনশীল বর্তমান বিশ্ব পুরোনো ও অকার্যকর কাঠামো দিয়ে আর চলতে পারে না।" — প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভ্লাদিমির পুতিন, মাসুদ পেজেশকিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, ১৪০টি অনুচ্ছেদের ঘোষণা, ১১ সদস্যের জোট, ৪০% জিডিপি, ২৬ জন মৃত্যুবরণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!