📌 বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে দেশের ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিক পরিচয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন
ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল শক্তি হিসেবে নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের কথা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
- 📌 ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা নৃগোষ্ঠীর পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বিপরীতে নাগরিক পরিচয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দর্শনের ওপর গুরুত্ব আরোপ
- 📌 সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের সংস্কৃতি আলাদা উল্লেখ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি
- 📌 শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের প্রসঙ্গ
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারাবাহিক বিকাশের কথা উল্লেখ
📰 বিস্তারিত
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব মানুষের পরিচয় ও মর্যাদাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন গড়ে উঠতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা নৃগোষ্ঠীর পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দর্শনই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল শক্তি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতি আর গণতন্ত্রের সংস্কৃতি এক নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীরও সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহসহ বিভিন্ন পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মুসলিম-অমুসলিম, বাঙালি-অবাঙালি পরিচয়কে ঘিরে রক্তাক্ত ইতিহাস ও বিভাজনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে রাজনৈতিকভাবে কাঠামোবদ্ধ করেন। তিনি ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দর্শনের সূচনা করেন।
"বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহসহ বিভিন্ন পরিণতি মনে করিয়ে দেয়, বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ করতে হয়।"
স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দেশ গভীর সংকটে পড়ে। ওই পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন ও বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেন।
"একদলীয় শাসনের বিপরীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং একক পরিচয়ের বিপরীতে বহু পরিচয়, মত ও সংস্কৃতির সহাবস্থানই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল জায়গা।"
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহিদ জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এই রাজনৈতিক দর্শনকে এগিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারেক রহমান যে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারাবাহিক বিকাশ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহির উদ্দিন স্বপন (তথ্যমন্ত্রী), তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী), শহিদ জিয়াউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ হাজার (বর্গমাইল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!