📌 বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত আলী সুড়ঙ্গ একটি প্রাকৃতিক গুহা যেখানে গভীর অন্ধকারের মধ্যে আলোর রেখা দেখা যায়। এই সুড়ঙ্গের নামকরণ ও সৃষ্টির পিছনে রহস্য রয়েছে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত আলী সুড়ঙ্গ একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় যা পর্যটকদের মনকে আকৃষ্ট করে রাখে। এই সুড়ঙ্গের ভেতরে গভীর অন্ধকারের মধ্য দিয়ে হাঁটার সময় এক প্রান্তে আলোর রেখা দেখা যায়, যা হলিউডের চলচ্চিত্রের মতো রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয়। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হাজার বছরের পানির প্রবাহ ও বাতাসের ঘর্ষণের ফলে হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **আলী সুড়ঙ্গের নামকরণ ও সৃষ্টির পিছনে এখনো রহস্য অবধি উদ্ঘাটিত হয়নি** — নামের উৎস সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে: মারমা ভাষায় "আলেকোয়াতং" (কবুতরকে উৎসর্গের পাহাড়) এবং তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার "আইলেংতং" (পাহাড়ের নাম)।
- 📌 **সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত**, যেখানে আগে ঝিরি থেকে ওঠা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেনাবাহিনী ৭-৮ বছর আগে দুটি লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করেছে।
- 📌 **সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ৮০ থেকে ৯০ ফুট**, যেখানে ১০ ফুট ভেতরে গেলে সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়। ৬০ ফুট গেলে পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়, যা অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য।
- 📌 **প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আলী সুড়ঙ্গে আসেন**, বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারে পর্যটকদের সমাগম সর্বাধিক।
- 📌 **সুড়ঙ্গের পথে বাদুড়ের উপস্থিতি প্রচুর**, যা দর্শনার্থীদের জন্য কিছুটা চিন্তার বিষয়।
📰 বিস্তারিত
আলীকদম উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে তৈনখালের তীরে মারমা পাড়ায় (মং চ প্রু পাড়া) অবস্থিত এই সুড়ঙ্গে পৌঁছানোর পথ বেশ দুর্গম। সিএনজি অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে মারমা পাড়া পর্যন্ত যাওয়া যায়, তারপর গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হলে দেখা যায় রংরাং নামের পাহাড় থেকে নেমে আসা তৈনখালের। খালের তীরে দুটি পাহাড়ের খাড়া দেয়ালের মধ্যে দিয়ে ৪০০ মিটার গেলে আলী সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ দেখা যায়। পথে বিপদ ও তৈনখালের বন্য সৌন্দর্যের হাতছানি থাকলেও, চিরহরিৎ প্রাকৃতিক বনবেষ্টিত ৯০ ডিগ্রি খাড়া পাথুরে পাহাড়ের খাদে সুড়ঙ্গের ঝিরি অবস্থিত।
আলীকদমের ট্যুর গাইডের সভাপতি মিন্টু কর্মকার জানান, সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ থেকে ভেতরে গেলে প্রথম ১০ ফুটে অন্ধকার শুরু হয়। ৬০ ফুট গেলে পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়, যা অতিক্রম করা কষ্টসাধ্য। তবে সুড়ঙ্গের পেছন মুখ দিয়ে বের হয়ে আসা সম্ভব। বাদুড়ের উপস্থিতি এবং অন্ধকারের কারণে দর্শনার্থীদের সতর্কতার প্রয়োজন হয়।
আলীকদম মৌজার প্রবীণ হেডম্যান অংহ্লাচিং মারমা বলেন, আলেকোয়াতং থেকে আলী সুড়ঙ্গ ও আলীকদম নাম হয়েছে। মারমা ভাষায় "আলে" অর্থ উৎসর্গ বা পূজা, "কোয়া" মানে কবুতর এবং "তং" হলো পাহাড়। একসময় পাহাড়ে বুনো কবুতর ছিল, যা শিশুদের অসুখ-বিসুখে উৎসর্গ করা হতো। অন্যদিকে, গিরিনন্দিনী আলীকদম বইয়ের লেখক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে আরাকান ও মোগল শাসনের প্রভাবে চাকমা রাজপরিবার ও শাহ সুজার অনুসারীরা আলীকদমে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার "আইলেংতং" থেকে আলীকদম ও আলী সুড়ঙ্গের নাম হতে পারে।
"আলী সুড়ঙ্গের নামকরণ ও সৃষ্টির পিছনে রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। পর্যটকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে এই রহস্যগুলো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আলীকদম উপজেলা, বান্দরবান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিন্টু কর্মকার (ট্যুর গাইডের সভাপতি), অংহ্লাচিং মারমা (হেডম্যান), মমতাজ উদ্দিন আহমদ (লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০ মিটার (পথ), ৯০ ডিগ্রি (পাহাড়ের খাড়া), ২০-২৫ ফুট (সুড়ঙ্গ প্রবেশমুখ), ৮০-৯০ ফুট (সুড়ঙ্গ দৈর্ঘ্য), ৬০ ফুট (সংকীর্ণ অংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!