📌 দোয়েলের তীক্ষ্ণ সুরেলা ডাক, সহজলভ্যতা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী জাকের হোসেনের প্রস্তাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নগরায়ণ ও কীটনাশকের কারণে এখন দোয়েলের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে
সকালবেলার শান্ত পরিবেশ ভাঙার আগে তীক্ষ্ণ সুরেলা ডাক শুনলে আপনি কি চিনতে পারেন যে ওই ডাক দোয়েলের? কালো-সাদা এই ছোট্ট পাখিটিকে বাংলাদেশের জাতীয় পাখির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেন এই সাধারণ পাখিকে বেছে নেওয়া হয়, সেটা অনেকের কাছে অজানা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী জাকের হোসেনের প্রস্তাবে দোয়েলকে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি ঘোষণা করা হয়
- 📌 দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম *Copsychus saularis* — মাথা-পিঠ কালো, বুক-পেট সাদা, লেজ সোজা তুলে রাখে
- 📌 পুরুষ পাখির রং কালো-সাদা, স্ত্রী পাখির রং ধূসর; আকারে মোটে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা
- 📌 দোয়েলের ডাকের বৈচিত্র্য ও কৃষিবান্ধব স্বভাবের কারণে এটি কৃষকদের প্রিয় ছিল
- 📌 নগরায়ণ ও কীটনাশকের কারণে দোয়েলের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, বিশেষত ঢাকার মতো শহরে
📰 বিস্তারিত
দোয়েলের ডাক শুনলে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, দিনটা ভালো হবে। এই ছোট্ট পাখির মধ্যে রয়েছে সাহস ও প্রতিরোধের গুণ। স্বাধীনতার পর নতুন দেশের প্রতীক হিসেবে দোয়েলকে বেছে নেওয়ার পেছনে এই গুণই ছিল মূল কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাকের হোসেন প্রথম এই প্রস্তাব দেন। তিনি বলেছিলেন, দোয়েলের মধ্যে সেই জেদ ও প্রতিরোধের শক্তি রয়েছে যা নতুন স্বাধীন দেশের প্রতীক হিসেবে উপযুক্ত।
দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম *Copsychus saularis*। এর মাথা ও পিঠ কালো-চকচকে, বুক ও পেট সাদা। পুরুষ পাখির রং সম্পূর্ণ কালো-সাদা, কিন্তু স্ত্রী পাখির রং কিছুটা ফিকে ধূসর। এর আকার মোটে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা। এই ছোট্ট পাখির মধ্যে রয়েছে অসাধারণ গানের ক্ষমতা। ভোরে এক রকম ডাক, দুপুরে আরেক রকম ডাক — এমনকি অন্য পাখির ডাকও নকল করতে পারে। গ্রামগঞ্জে দোয়েলের গান নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে।
দোয়েলের সহজলভ্যতা ও কৃষিবান্ধব স্বভাবও এর জাতীয় পাখি হওয়ার পেছনে একটি কারণ। দোয়েল মাটিতে নেমে পোকামাকড়, শুঁয়াপোকা খেয়ে ফেলে, যা কৃষকদের জন্য উপকারী। তবে আজকাল নগরায়ণের কারণে গাছপালা কমছে, খোলা মাটির জায়গাও কমে আসছে। ঢাকার মতো শহরে দোয়েল দেখাটাই একরকম দুর্লভ হয়ে পড়েছে। গ্রামেও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পোকামাকড় কমছে, যার ফলে দোয়েলের খাদ্য চক্রেও প্রভাব পড়ছে।
"দোয়েলের মধ্যে সেই জেদ ও প্রতিরোধের শক্তি রয়েছে যা নতুন স্বাধীন দেশের প্রতীক হিসেবে উপযুক্ত"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, গ্রাম, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী জাকের হোসেন (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ সেন্টিমিটার (দোয়েলের আকার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!