📌 কুমিল্লার বানাশুয়া গ্রামের মদিনা অ্যাগ্রো ফার্মে খামারের বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাসে রান্না করছে ৪০টি পরিবার। উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী নয়ন বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং গ্রামবাসীর জ্বালানি খরচ কমেছে
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বানাশুয়া গ্রামে একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প গ্রামীণ জীবনে বিপ্লবী পরিবর্তন আনছে। এখানে গড়ে উঠেছে মদিনা অ্যাগ্রো ফার্ম, যেখানে খামারের বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাসে রান্না করছে ৪০টি পরিবার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের জ্বালানি খরচ কমেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মদিনা অ্যাগ্রো ফার্মে গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা থেকে তৈরি বায়োগ্যাসে রান্না করছে ৪০টি পরিবার
- 📌 উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী নয়ন বলেছেন, বর্জ্য থেকে গ্যাস তৈরি করে খামারের রান্নার কাজ মেটানো হয় এবং আশপাশের গ্রামে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়
- 📌 বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের জ্বালানি খরচ কমেছে
- 📌 খামারের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্জ্য থেকে উপকারিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বানাশুয়া গ্রামে মদিনা অ্যাগ্রো ফার্মে গড়ে উঠেছে একটি সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ। এখানে মাছের পুকুর, গরুর খামার এবং লেয়ার মুরগির ফার্ম রয়েছে। উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী নয়ন ২০২১ সালে এই খামার গড়ে তোলেন। প্রতিদিন এখান থেকে সংগ্রহ করা হয় দুধ ও ডিম।
খামারের গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে প্রাকৃতিক পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস তৈরি হয়, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারের রান্নাঘরে পৌঁছে যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান হয়েছে এবং গ্রামবাসীদের জ্বালানি খরচ কমেছে।
মোহাম্মদ আলী নয়ন সারাবাংলাকে বলেন, ‘খামারে প্রতিদিন অনেক গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা জমত। এগুলো পরিষ্কার করাও ছিল ঝামেলার বিষয়। পরে চিন্তা করলাম, এই বর্জ্য যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে একসঙ্গে দুইটা সুবিধা পাওয়া যাবে। সেই চিন্তা থেকেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করা। এখন খামারের রান্নার কাজ মেটানোর পাশাপাশি আশপাশের ৪০টি পরিবারও এখান থেকে গ্যাস পাচ্ছে।’
"আগে যে জিনিসটা ফেলে দিতে হতো, এখন সেটাই আমাদের কাজে লাগছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাও কমেছে, আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করতে পারছি। অন্য খামারিরাও চাইলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন।"
বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের কারণে শুধু জ্বালানিই নয়, খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজা মুক্তা বলেন, ‘বায়োগ্যাস দিয়ে রান্না করতে আমাদের বেশ সুবিধা হচ্ছে। রান্নার জন্য আলাদা করে জ্বালানি নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। চুলায় গ্যাস থাকায় প্রয়োজনমতো রান্না করা যায়। সবচেয়ে ভালো লাগছে, যে গোবর-বিষ্ঠা আগে পরিবেশের জন্য সমস্যা ছিল, এখন সেটাই আমাদের রান্নার কাজে লাগছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বানাশুয়া গ্রাম, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আলী নয়ন, মাহফুজা মুক্তা, রাকিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০টি পরিবার (বায়োগ্যাস পাইপলাইন সংযোগ), ২০২১ (প্রকল্প শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!